ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট কিভাবে চিনবেন
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার উন্নত দেশে কাজের স্বপ্ন দেখে হাজারো তরুণ প্রতিদিন নতুন পথ খোঁজে। এই সুযোগে দালাল চক্র ও অবৈধ এজেন্সিগুলো নানা দেশের ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট, ফেক কোম্পানির অফার লেটার এবং কাল্পনিক চাকরির কাগজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। অনেকেই জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে শেষে বুঝতে পারেন—যে স্বপ্নটি দেখানো হয়েছিল, সেটি ছিল নিছক প্রতারণা। তাই বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট থেকে বাঁচতে কিছু বিষয় অবশ্যই জানা দরকার।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, কোনো দেশই কখনো ফেসবুক পেজ, নাম না জানা এজেন্সি বা অচেনা দালালের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট পাঠায় না। বৈধ ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারিভাবে অনুমোদিত কোম্পানি, নথিভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি এবং দূতাবাস ছাড়া অন্য কারও হাতে কাগজ থাকার কথা নয়। তাই কেউ যদি খুব সহজে, খুব দ্রুত বা অস্বাভাবিক কম খরচে বিদেশে চাকরির অফার দেয়—সেটি সন্দেহ করার মতোই বিষয়।
এছাড়া ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট চেনার সবচেয়ে বড় উপায় হলো যাচাই করা। যেকোনো ওয়ার্ক ভিসা বা চাকরির অফার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই দেশের সরকারি ওয়েবসাইটে ভিসা ট্র্যাকিং করে দেখুন নম্বরটি আসল কিনা। কোম্পানির নাম দিলে সার্চ করে দেখুন প্রতিষ্ঠানটি সত্যি আছে কি না, গুগল ম্যাপে সেই অফিসের ঠিকানা মেলানো যায় কি না। অনেক ফেক কোম্পানি ইন্টারনেটে নেই, ফোন নম্বরও কাজ করে না—এসব স্পষ্ট প্রতারণার লক্ষণ।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পেমেন্ট। কোনো দেশই ভিসা পাওয়ার আগে টাকা পাঠাতে বলে না। ভিসা স্ট্যাম্প হওয়ার আগেই টাকা দাবি করলে বুঝবেন এটা প্রতারণার শুরু। তাই আগাম টাকা দেবেন না, দালালের কথায় ভরসা করবেন না, সবকিছু নিজে যাচাই করে নিন।
বিদেশে কাজের সুযোগ অবশ্যই আছে, কিন্তু ফাঁদও কম নয়। একটু সতর্কতা, একটু যাচাই আর নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিলে—ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকা যায়। আপনার স্বপ্নটা যেন কাউকে সুযোগ না দেয়—এটাই মূল সতর্কতা।

আপনার মতামত লিখুন