লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলায় এসপি নিয়োগ: নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। ৬৪ জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ লটারির মাধ্যমে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল নয় বরং ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীলরা।
সরকার বলছে, এবারের এসপি নিয়োগে কোনো তদবির বা রাজনৈতিক প্রভাব রাখেনি। প্রথমে যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করা হয়, এরপর লটারির মাধ্যমে ঠিক করা হয় কে কোন জেলায় দায়িত্ব পাবেন। ফলে মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েনি এবং দায়িত্ব বণ্টন হয়েছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি জেলা আলাদা চাহিদা ও ঝুঁকির ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—এ, বি ও সি ক্যাটাগরি। কোন কর্মকর্তাকে কোন ক্যাটাগরির জেলায় পাঠানো হবে, সেটিও লটারির মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হয়। এতে কোন কর্মকর্তা কোন জেলায় যাচ্ছেন, তা আগে থেকে কেউ জানতেন না। এর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন পুলিশ প্রশাসনের ওপর আস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
নতুন নিয়োগের ফলে অনেক জেলার এসপি স্থানান্তর হয়ে অন্য জেলায় গেছেন, আবার কিছু নতুন মুখও এসপি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এতে অভিজ্ঞ ও নতুন কর্মকর্তাদের মিশ্রণে একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ওসিদের নিয়োগও লটারির মাধ্যমে করা হবে—এমন পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।
তবে পুলিশের অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ জেলার জন্য অভিজ্ঞতা একটি বড় বিষয়। লটারির কারণে কম অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা যদি চ্যালেঞ্জিং জেলায় দায়িত্ব পান, তাহলে কাজের চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে। যদিও সরকার বলছে, সবাই যোগ্যতার তালিকা থেকেই নির্বাচিত—অতএব দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই লটারিভিত্তিক নিয়োগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্বচ্ছতা ও তদবিরমুক্ত প্রশাসন গঠনের এই উদ্যোগকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আবার অনেকে বলছেন, ফলাফলই বলে দেবে এই উদ্যোগ কার্যকর ছিল কি না।
সব মিলিয়ে, লটারির মাধ্যমে এসপি নিয়োগ—দেশের পুলিশ প্রশাসনে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বার্তা আরও জোরালো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন