খুঁজুন
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

জগন্নাথপুরে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা

আল মাহমুদ জীবন (সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
জগন্নাথপুরে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা

জগন্নাথপুরে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, অভিযুক্তকে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। জন্নাথপুরে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত সাগর মিয়া রুদ্রকে (১৯) পুলিশের দিয়েছে স্থানীয়রা বাশিন্ধা।

এ ঘটনা গতকাল মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর মা বাদি হয়ে সাগর মিয়ার বিরুদ্ধের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত সাগর মিয়া উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের সাচায়ানী গ্রামের হাকিম আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ওই শিশু শিক্ষার্থীর তার এক সহপাঠির বাড়িতে খেলাধুলা করতে যায়। পরে রাত হয়ে যাওয়ায় প্রতিবেশি সাগর মিয়া ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে আসে। পথিমধ্যে অভিযুক্ত সাগর ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় শিশুটির চিৎকার দিয়ে দৌঁড় দিলে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তকে আটক করে। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃত সাগর মিয়াকে থানায় নিয়ে আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত জগন্নাথপু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঞা বলেন, ওই শিশুর মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের পর আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে|

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়লো ১৪ দোকান, আহত ১

আব্দুল গফুর খান, মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়লো ১৪ দোকান, আহত ১
  1. মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুনে পুড়লো ১৪ দোকান, আহত ১

আব্দুল গফুর খান, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
ডিজেল তেলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত, পুড়ল ১৪ দোকান, আহত -১

হরিরামপুর উপজেলার আন্দারমানিক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪টি দোকান পুড়ে গেছে।এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে বাজারের একটি ডিজেল তেলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারের ব্যবসায়ী মিন্টু দত্তের ডিজেল তেলের দোকান থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই দোকানে ডিজেল তেলের পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার ও শতাধিক বোতলজাত দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে।
মুহূর্তের মধ্যেই আগুন বাজারের কয়েকটি সারিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ২০ থেকে ২৫টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়। এর মধ্যে ১৪ টি ভিতরে থাকা মালামালসহ দোকান সম্পূর্ণ পড়ে গেছে।বিকিগুলো আংশিক পুড়ে গেছে।অগ্নিকাণ্ডে দোকানের মালিক মিন্টু দত্তের ভাই বিল্টু দত্ত আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা হাসপাতালে পাঠান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফায়ার সার্ভিস মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল হামিদ জানান, এ ঘটনায় ১৪টি দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং আরও বেশ কয়েকটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই দোকানের মালামাল বের করার সুযোগ পাননি। এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

ঈদকে ঘিরে মাদারগঞ্জে জমে উঠেছে পোশাক বেচাকেনা

হৃদয় হাসান মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ঈদকে ঘিরে মাদারগঞ্জে জমে উঠেছে পোশাক বেচাকেনা

ঈদকে ঘিরে মাদারগঞ্জে জমে উঠেছে পোশাক বেচাকেনা

হৃদয় হাসান
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জামালপুরের মাদারগঞ্জে জমে উঠেছে পোশাকের বাজার। রমজানের মাঝামাঝি সময় পেরোতেই উপজেলার বিভিন্ন বিপণিবিতান, ব্র্যান্ডের শোরুম ও কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা, দরদাম আর পছন্দের পোশাক বেছে নেওয়ার ব্যস্ততা। আলোকসজ্জা ও নতুন পোশাকের বাহারি প্রদর্শনীতে পুরো বাজারজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।
উপজেলার বড় মার্কেটের পাশাপাশি ছোট দোকান ও ফুটপাতের অস্থায়ী স্টলগুলোতেও বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। পোশাকের দোকানের পাশাপাশি জুতা, কসমেটিকস ও শিশুদের সামগ্রীর দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ী বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেনাকাটায় নারীদের উপস্থিতিই বেশি। তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আধুনিক ডিজাইনের থ্রি-পিস, শাড়ি ও বিদেশি ফ্যাশনের পোশাক। এছাড়া পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট-প্যান্ট এবং শিশুদের জন্য বাহারি ডিজাইনের নানা পোশাক দোকানজুড়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দোকানের সামনে টাঙানো হয়েছে রঙিন ব্যানার, আর ভেতরে ঝুলছে নতুন কালেকশনের পোশাক। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে, আর ইফতারের পর সেই ভিড় আরও জমজমাট হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। নতুন ডিজাইন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের কারণে ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে পাইকারি বাজারে কাপড়ের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানান তারা।
বালিজুড়ী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, “রমজানের শুরুতে বিক্রি কম ছিল। তবে এখন প্রতিদিনই ভালো বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই পরিবারের সবার জন্য একসঙ্গে কেনাকাটা করছেন। ঈদের আগের সপ্তাহে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”
কেনাকাটা করতে আসা উপজেলার নব্যচর এলাকার বাসিন্দা হালিমা বেগম বলেন, “ঈদের কিছুদিন বাকি থাকলেও দাম একটু কম পাওয়ার আশায় আগেই এসেছি। মেয়ের জন্য জামা ও জুতা কিনেছি। তবে কাপড়ের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি।”
কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, “ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে নামাজে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। তাই মিলিয়ে পোশাক নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পাঞ্জাবির দাম একটু বেশি।”
এদিকে ঈদকে ঘিরে স্থানীয় দর্জিদের কাজের চাপও বেড়েছে। অনেকেই রেডিমেড পোশাকের পরিবর্তে কাপড় কিনে নিজের পছন্দমতো পোশাক তৈরি করছেন। ফলে কাপড়ের দোকানের পাশাপাশি টেইলার্সগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।
পৌরসভার জোনাইল এলাকার ছালেহা বেগম বলেন, “কাপড় কিনতেই অনেক খরচ। তার ওপর সেলাইয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাগলে আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চাপ হয়ে যায়। তবুও ঈদ বলে কথা, বাচ্চাদের জন্য পোশাক বানাতেই হয়।”
স্থানীয় দর্জি আলামিন ইসলাম বলেন, “ঈদের আগে কাজের চাপ তো থাকেই, তবে এবার চাপ একটু বেশি। কর্মচারীদের ওভারটাইম করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল ও সুতা-আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় মজুরিও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।”
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে মাদারগঞ্জ শহরের শপিংমল ও পোশাকের দোকানগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিপণিবিতান ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।”

জামালপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত

হৃদয় হাসান জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
জামালপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত

জামালপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চাচা-ভাতিজা নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মেলান্দহ পৌর শহরের মিয়ারপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অপর মোটরসাইকেলচালক সামান্য আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার ঢালুয়াবাড়ী এলাকার ধীরেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে কাজল (৪২) এবং তাঁর ভাতিজা আকাশ (২০)। তারা দুজনেই হাজরাবাড়ী বাজারের একটি সেলুনে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ২টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকায় একটি বিয়ের দাওয়াত শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন কাজল ও আকাশ। পথে মিয়ারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আকাশ মারা যান।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা গুরুতর আহত কাজলকে উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ঘটনাস্থলে এবং অপরজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজ