খুঁজুন
সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

জাবিতে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের মানববন্ধন

আলামিন খান (জাবি প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
জাবিতে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের মানববন্ধন

শিক্ষক সিন্ডিকেট, জুলাই আন্দোলনে মদদদাতা শিক্ষক ও পরীক্ষার অনিয়মে জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক কাজী মেহরাব।

মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক খন্দকার আল ফাহাদ বলেন, আমরা প্রথম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের দাবি করে আসছি। কিন্তু আমাদের প্রশাসন একটা কথা বলে যে তারা শিক্ষকদের প্রতি কোন অবিচার করতে পারবে না; ঠিক কথা যে তারা শিক্ষকদের প্রতি কোন অবিচার করতে পারবে না। কিন্তু তারা প্রতিবার শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার করতে পারে, তারা পূর্বেও করে আসছে, বর্তমানেও করছে। যেই প্রশাসনকে আমরা একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বসিয়েছি তারা আজকে এই গণ-অভ্যত্থানকে একটা হাসিতে পরিণত করছে। তারা চেয়ারে বসে শুধু কি আরাম, আয়েশ ভোগ করে নাকি দায়িত্ব পালন করে এটাও আমি বুঝতে পারি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তির সংগঠক নাদিয়া রহমান বলেন, হামলাকারী শিক্ষার্থীদের বিচার যদি এই দেড় বছরে করা সম্ভব হয়, তাহলে মদদদাতা শিক্ষকদের বিচার কেন এই দেড় বছরে করা সম্ভব নয়? তারা জাকসুর আগে মিটিংগুলোতে তারা বলেছিলেন জাকসু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই শিক্ষকদের বিচার হওয়া সম্ভব। তাহলে, আমার প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন: কোথায় সেই বিচার? জাকসু হওয়ার পর আজকে প্রায় দুই মাস হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনো পর্যন্ত শিক্ষকদের কোনো ধরনের বিচারের তৎপরতা প্রশাসনের ভিতরে দেখছি না।

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রশক্তির সংগঠক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারে এই প্রশাসন নানান সময়ে তালবাহানা করছে, গড়িমসি করছে। আমাদেরকে আশ্বাস দিচ্ছে, তদন্ত কমিটি হচ্ছে; অধিকতর তদন্ত কমিটি হচ্ছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই কুলাঙ্গার শিক্ষকদের বিচার নিশ্চিত করছে না। আমরা মনে করছি, এই শিক্ষকদের বিচার না হওয়ার পিছনে জড়িত রয়েছে আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট। যে সকল শিক্ষকরা রেজাল্ট টেম্পারিং করছে, সেই সকল টেম্পারিংয়ের সাথে জড়িত রয়েছে আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট। সেই সকল আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে, সেই সকল আওয়ামীপন্থী সিন্ডিকেট রুখে দিতে হবে। যদি প্রশাসন এসব শিক্ষকদের বিচার না করে তাহলে সাবেক ভিসি নুরুল আলমের প্রশাসন যেভাবে বিদায় নিয়েছিল, আপনাদেরকেও কিন্তু টেনে হিঁচড়ে নামাতে বাধ্য হব।

৫ লাখ শ্রমিক নিবে ইতালি, আবেদন করবেন যেভাবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
৫ লাখ শ্রমিক নিবে ইতালি, আবেদন করবেন যেভাবে

ইতালির সরকার ঘোষণা করেছে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ (৪৯৭,৫৫০) বিদেশি শ্রমিককে বৈধভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। তারা বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে (non‑EU) যারা — তাদের জন্য নতুন “ওয়ার্ক ভিসা / স্পন্সর ভিসা” চালু হবে, যাতে কৃষি, পর্যটন, নির্মাণ, গৃহসেবা, কারিগরি কাজসহ বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ থাকবে।

পরিকল্পনায় দেখা গেছে — প্রথম বছরে (২০২৬) প্রায় ১,৬৪,৮৫০ জন, ২০২৭‑এ ১,৬৫,৮৫০ জন, এবং ২০২৮‑এ ১,৬৬,৮৫০ জনকে স্বাগত জানাবে। নতুন ভিসার মধ্যে থাকবে — ফুল‑টাইম কাজ, সিজনাল কাজ (যেমন কৃষি, পর্যটন), গৃহসেবা এবং কিছু কারিগরি ও সেলফ‑এমপ্লয়েড এর সুযোগ।

এই ঘোষণার পেছনে মূল কারণ হলো — ইতালিতে বর্তমান শ্রম‑সংকট, শিল্প ও কৃষি খাতে কর্মী অভাব, এবং দেশটির বয়স্ক জনসংখ্যা।

যারা বাংলাদেশ থেকেও সুযোগ খুঁজছেন, তারা জানবেন — ২০২৫ সালের মে মাসে ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) হয়েছে, যাতে আইনি গতি বাড়াতে, অবৈধ অভিবাসন কমাতে এবং বৈধভাবে বিদেশে যেতে চাওয়া শ্রমিকদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

তবে সরকারি পক্ষ সতর্ক করছে — আবেদন করতে গেলে ভুয়া দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে যাচাই করা হয়নি এমন কাগজ দিয়ে যাবেন না। কারণ এবার ভিসা প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও কঠোর, নিয়োগকারী ও আবেদনকারী উভয়ের তথ্য যাচাই করতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত — যা “ফ্লো ডিক্রি (Flow Decree 2026–2028)” নামে পরিচিত — ইতালির অভিবাসন নীতিতে এক বড় পরিবর্তন। এটি প্রথাগত বার্ষিক কোটা থেকে তিন বছরের একটা পরিকল্পনামূলক রূপান্তর। এতে বোঝা যায়, ইতালি দীর্ঘমেয়াদিভাবে বৈধ অভিবাসন চায়, এবং শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করছে।

সার্বিকভাবে — যারা বিদেশে কাজের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। তবে আবেদন করার আগে সব তথ্য যাচাই করতে হবে, স্পন্সর বা নিয়োগদাতাকে চেক করতে হবে, এবং সন্দেহজনক দালাল বা চ্যানেল থেকে দূরে থাকতে হবে।

নোয়াখালীতে আনসার ভিডিপি ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

আরিফ হোসেন (নোয়াখালী প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:০১ অপরাহ্ণ
নোয়াখালীতে আনসার ভিডিপি ব্যাংকের কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে নামে-বেনামে ঋণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ১০ কোটির টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে থাকা আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক সেনবাগ ও দত্তেরহাট শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় র‍্যাবের কাছ থেকে তাকে দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের তদন্ত টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্রগ্রামের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঋণ নেওয়া গ্রাহকদের অধিকাংশ ব্যক্তির বাস্তবে অস্তিত্ব না থাকা, ভুয়া এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা ও গ্রাহকদের না জানিয়ে তাদের নামে ঋণ তুলে ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে ১০ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করে পালিয়ে ছিলেন তিনি।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের গত ২০ অক্টোবরের অভিযানে কর্মকর্তারা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও যাচাই করে অসংখ্য অনিয়ম এবং জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পান। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তেও মিলে এর সত্যতা। অভিযোগে ভিত্তিতে নোয়াখালী স্পেশাল সিনিয়র জজ আদালতে দুদকের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বিষয়টি জানাজানি হলে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীরকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।

দুদক নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে ৯ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। তাঁকে র‍্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নোয়াখালীর উপপরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া বলেন, আমাদের বিভিন্ন সদস্যদের নামে ঋণ দেখিয়ে আলমগীর হোসেন অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি দুদক ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে।

হঠাৎ ফোন কেন গরম হয়ে যায়? কারণ ও সমাধান একসাথে জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১:১৮ অপরাহ্ণ
হঠাৎ ফোন কেন গরম হয়ে যায়? কারণ ও সমাধান একসাথে জেনে নিন

ফোন গরম হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ডিভাইসে বেশি লোড পড়া। অনেকক্ষণ ধরে ভারী গেম খেলা, ভিডিও এডিটিং বা সোশ্যাল মিডিয়ার মতো হাই-লোড অ্যাপ চালালে CPU এবং GPU অতিরিক্ত কাজ করে এবং তাপ তৈরি হয়। চার্জ দিতে দিতে ফোন ব্যবহার করলেও ব্যাটারি দুই দিক থেকে চাপ খায়, ফলে দ্রুত গরম হয়ে যায়। নকল বা লো-মানের চার্জার ব্যবহার করলে সঠিক ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ না হওয়ায় ব্যাটারি অস্বাভাবিকভাবে হিট করে। দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যালের সময় ফোন বারবার কানেকশন খোঁজে, এতে প্রসেসর বেশি কাজ করে এবং তাপ বাড়ে।

ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ খোলা থাকলে CPU সবসময় ব্যস্ত থাকে—এটাও ফোন গরম হওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি। ফোনের স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেলে সিস্টেম ফাইলগুলো ঠিকমতো প্রসেস করতে পারে না, ফলে ফোন স্লো হয়ে যায় এবং বেশি তাপ উৎপন্ন করে। পুরোনো সফটওয়্যার বা বাগ থাকলেও ফোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লোড নেয়। আর রোদের মধ্যে বা বালিশ/কম্বলের নিচে ফোন রাখলে তাপ বের হতে পারে না, তাই দ্রুত হিট হয়।

সমাধান খুবই সহজ। দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভারী অ্যাপ চালানোর মাঝে বিরতি নাও এবং গ্রাফিক্স কমিয়ে ব্যবহার করো। চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। নকল চার্জার পুরোপুরি বাদ দিয়ে অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার করো। সিগন্যাল দুর্বল থাকলে ভালো নেটওয়ার্কে যাও বা ওয়াইফাই ব্যবহার করো। ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ক্লিয়ার করে দাও এবং স্টোরেজে অন্তত ২০% জায়গা ফাঁকা রাখো। সফটওয়্যার আপডেট করে রাখলে বাগ কমে এবং ফোন স্থিতিশীল থাকে।

ফোন কখনো রোদে বা বালিশের নিচে রেখে দিবেন না —এতে তাপ আটকে যায়। এসব নিয়ম মানলে ফোন অনেক কম গরম হবে এবং পারফরম্যান্সও আগের মতো দ্রুত থাকবে।

ব্রেকিং নিউজ