দাম বাড়লো সিলিন্ডার গ্যাসের; প্রতি বোতলের দাম কত জেনে নিন
বালাদেশে আবারও বাড়লো গৃহস্থালির ব্যবহারে জনপ্রিয় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করেছে ১,২৫৩ টাকা, যা আগে ছিল ১,২১৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ৩৮ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন-বিউটেনের দামের ওঠানামা এবং ভ্যাট-কর সমন্বয়ের কারণ দেখিয়ে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকেই এই দর কার্যকর হবে। এলপিজি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পরিবারের রান্নার একমাত্র ভরসা হওয়ায় দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের পরিবারিক বাজেটে সরাসরি চাপ ফেলবে।
বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য গ্যাসের বাড়তি ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে, কারণ মাসে একাধিক সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের জন্য এই বাড়তি দাম যোগ হতে হতে বড় অঙ্কে পৌঁছে যায়। এতে অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানার দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা সবসময় নিরাপদ বা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অন্যদিকে অভিযোগ আছে— অনেক এলাকায় বিক্রেতারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করেন, ফলে বাস্তব বাজারে ভোক্তারা আরো বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন।
দাম বাড়ার পর এই গেরুয়া দামের প্রবণতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীর স্বার্থে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বাজার কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে, যাতে নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ অতিরিক্ত মূল্য না নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, রান্নার মতো অত্যাবশ্যক জ্বালানিতে বারবার মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি-নিরাপত্তাকেও চাপে ফেলে।
এলপিজি এখনো তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও সুবিধাজনক জ্বালানি হওয়ায় এর দাম সাশ্রয়ী রাখা জরুরি। সামগ্রিকভাবে বলা যায়— এলপিজির ৩৮ টাকা বৃদ্ধি অঙ্কে ছোট হলেও প্রভাবের ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্য। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পরিবারিক খরচ এবং বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব পড়বে নিশ্চিতভাবেই। সরকারের উচিত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে কার্যকর নীতি ও সঠিক বাজার তদারকি নিশ্চিত করা, যেন জনভোগান্তি আর না বাড়ে।

আপনার মতামত লিখুন