খুঁজুন
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫ মাঘ, ১৪৩২

মাত্র ৩ লাখ টাকা খরচ করে যেতে পারবেন ইউরোপের যে দুটি দেশে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
মাত্র ৩ লাখ টাকা খরচ করে যেতে পারবেন ইউরোপের যে দুটি দেশে

ইউরোপ ভ্রমণ মানেই বিশাল খরচ—এমন ধারণা আমাদের সবার মাথায় থাকে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা আর সঠিক দেশ বেছে নিলে মাত্র তিন লাখ টাকা বাজেটেই দুইটি ইউরোপীয় দেশ ঘুরে আসা সম্পূর্ণ সম্ভব। বিশেষ করে বুলগেরিয়া এবং পোল্যান্ড বর্তমানে ইউরোপের সবচেয়ে বাজেট-বান্ধব ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। খাবার, থাকা, পরিবহন—সবই সাশ্রয়ী হওয়ায় এই দেশগুলোতে কম খরচে দারুণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। আরও বড় সুবিধা হলো—একটি শেঞ্জেন ভিসা নিয়েই দুই দেশে ভ্রমণ করা যায়।

ঢাকা থেকে সাধারণত ইস্তানবুল বা দুবাই ট্রানজিট হয়ে বুলগেরিয়ায় যেতে হয়। আগেভাগে টিকিট কেটে নিলে ১,২৫,০০০ থেকে ১,৪৫,০০০ টাকার মধ্যেই রিটার্ন ফ্লাইট পাওয়া যায়। বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া শহর খুবই সুন্দর ও কম খরচের। রিলা মনাস্টেরি, প্লোভদিভ, বান্সকো—এসব জায়গা দেখার মতো। এখানে থাকার খরচ ২৫–৩০ ইউরো, খাবার ১০–১৫ ইউরো এবং পরিবহন ৫–১০ ইউরো—মানে দৈনিক আনুমানিক ৫,০০০–৬,০০০ টাকায় বুলগেরিয়ায় ভালোভাবে ঘোরা যায়।

এরপর বুলগেরিয়া থেকে পোল্যান্ডে যাওয়া যায় খুব কম খরচে। ফ্লাইট নিলে ১০–১৫ হাজার টাকার মতো আর বাস নিলে আরও কম। পোল্যান্ডে থাকার খরচ ২৫–৪০ ইউরো, খাবার ১২–১৮ ইউরো এবং দৈনিক মোট খরচ প্রায় ৫,৫০০–৭,০০০ টাকা। ওয়ারশ, ক্রাকো, জাকোপানে—এই তিন জায়গা ঘুরলেই মনে হবে ট্রিপ সফল। পাঁচ থেকে ছয় দিন পোল্যান্ডে কাটিয়ে দিলে ইউরোপের প্রকৃতি, ইতিহাস এবং আধুনিকতার এক দুর্দান্ত মিশ্রণ পাওয়া যায়।

ফ্লাইট, ভিসা, থাকা, খাবার, পরিবহন এবং দুই দেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতসহ পুরো ট্রিপে মোট খরচ দাঁড়ায় আনুমানিক ২,৭০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ টাকার মতো। অর্থাৎ সঠিক পরিকল্পনা করলে তিন লাখ টাকার মধ্যেই ইউরোপের দুই দেশে ৯–১০ দিন আরামসে ভ্রমণ করা যায়।

আরও পড়ুন:👉

তালি ৫ লাখ শ্রমিক নেবে, আবেদন করবেন যেভাবে,লিংক: https://doyelnews.com/1946/

মাত্র তিন লাখ টাকা বাজেটেই যারা ইউরোপ ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য বুলগেরিয়া ও পোল্যান্ড হতে পারে সবচেয়ে স্মার্ট সিদ্ধান্ত।

বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজির দাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজির দাম

শীত মৌসুমে সরবরাহ বাড়ার কথা থাকলেও দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলছে না। চাল, ডাল ও সবজির দাম একসঙ্গে বাড়ায় বা স্থিতিশীলভাবে উচ্চ অবস্থানে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচ আরও চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কালবেলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা শহরের বাজারগুলোতে মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিনিকেট, নাজিরশাইল ও চিকন জাতের চাল এখন আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা দৈনন্দিন খাবারের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চালের পাশাপাশি ডালের বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। মসুর, মুগ ও ছোলার মতো জনপ্রিয় ডালের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়ে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। অনেক ক্রেতা জানান, আগে যেখানে নির্দিষ্ট বাজেটে মাসের বাজার করা যেত, এখন সেখানে পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হচ্ছে।

সবজির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। শীতকালীন সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন ও কাঁচা মরিচ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। কিছু সবজির দাম সামান্য কমলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। ফলে বাজারে পণ্য থাকলেও ক্রেতাদের জন্য তা স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি দরের চাপ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দাম কমানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরবরাহ চেইনে তদারকি বাড়ানো না গেলে নিত্যপণ্যের এই মূল্যচাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সার্বিকভাবে চাল, ডাল ও সবজির একসঙ্গে বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, আর বাজারে স্বস্তির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

হৃদয় হাসান (জামালপুর প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হৃদয় (২৪) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)  সকালে মাদারগঞ্জ পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয়, পৌরসভার বালিজুড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও একই এলাকার হাসান ফকিরের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, সকালে পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটের ছাদের ওপর কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সেখানে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন হৃদয়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে নিচে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর হৃদয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে তার শরীর গরম ছিল এবং নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এ অবস্থায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে দ্বিতীয়বারও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা আরও  অভিযোগ করে বলেন , হাসপাতালের চিকিৎসকরা  অবহেলা না করে যদি  সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিতো তাহলে হৃদয়কে বাঁচানো যেত। এদিকে চিকিৎসকের অবহেলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের শান্ত করেন। এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,আমাদের চিকিৎসক সব প্রসিডিউর মেনেই তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। রোগীর স্বজনদের এটা ভুল বুঝাবুঝি। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন,ডাক্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন পরীক্ষা -নিরীক্ষা করেই রোগীকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে  আইন প্রয়োগ করা হবে।

অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

আরিফ হোসেন (নোয়াখালি প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

শীতের ভোর, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো নিঝুম দ্বীপ তখনো ঘুম ভাঙেনি পুরোপুরি। হঠাৎ নদীর বুকে ডানা ঝাপটানোর শব্দ এক ঝাঁক অতিথি পাখি উড়ে গেল আলো ফোটার আগেই। মুহূর্তেই বোঝা যায়, শীত এলেই নিঝুম দ্বীপ শুধু একটি দ্বীপ নয়, হয়ে ওঠে ডানার রাজ্য। এখানে প্রকৃতি কথা বলে, আর পাখিরা সেই কথার ভাষা।

প্রতিবছর শীত এলেই সুদূর সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও হিমালয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসে আশ্রয় নেয় নোয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিছিন্ন নিঝুম দ্বীপে । অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই দ্বীপজুড়ে চলে অতিথি পাখির নীরব উৎসব। খাল, বিল, নদীর চর আর বনভূমি ভরে ওঠে তাদের কলতানে।

নিঝুম দ্বীপের চরাঞ্চলে হাঁটলে দেখা মেলে পাতিহাঁস, নীলশির, সরালি, লেঞ্জা, বাটান, পানকৌড়ি ও গাংচিলের দল। কখনো তারা নদীর জলে খাবার খোঁজে, কখনো চরজুড়ে বিশ্রামে বসে। সূর্যের আলো গায়ে মেখে ডানা ঝাপটানোর সেই দৃশ্য যে কাউকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেয়। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এ যেন প্রকৃতির তৈরি এক জীবন্ত সিনেমা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে শীতকালে তাপমাত্রা ভয়াবহভাবে কমে যায়। বরফে ঢেকে যায় জলাশয় ও খাদ্যভূমি। তখন খাদ্যের সন্ধানে এবং উষ্ণতার খোঁজে পাখিরা পাড়ি জমায় দক্ষিণ এশিয়ার দিকে। বাংলাদেশে শীতকালে আবহাওয়া তুলনামূলক সহনীয় এবং জলাভূমিতে খাবারের অভাব না থাকায় অতিথি পাখিরা এখানে নিরাপদ আশ্রয় পায়।

নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এই পাখিদের টানে। বিস্তৃত চর, নদী, বন আর নির্জন পরিবেশ পাখিদের জন্য আদর্শ আবাসভূমি তৈরি করেছে। তাই প্রতিবছর নির্দিষ্ট মৌসুমে তারা আবার ফিরে আসে এই দ্বীপে যেন পুরোনো ঠিকানায় ফেরা।

শীতের সকালে পর্যটক ও আলোকচিত্রীরা ভিড় করেন নিঝুম দ্বীপে। ভোরের আলোয় নদীর বুকে পাখির উড়াল, চরাঞ্চলে তাদের কলতান সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে নিঝুম দ্বীপ মানেই এই শীতের পাখির উৎসব। কেউ আসে ছবি তুলতে, কেউ আসে প্রকৃতির কাছে একটু শান্তি খুঁজতে।

তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে শঙ্কা। অতিথি পাখি শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংস হলে এই উৎসব থেমে যেতে পারে। পরিবেশবাদী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি জরুরি। পাখিরা নিরাপদ থাকলেই নিঝুম দ্বীপ তার এই অনন্য সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবে।

মার্চ-এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা বাড়লে অতিথি পাখিরা আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়। তখন নিঝুম দ্বীপ কিছুটা নীরব হয়ে পড়ে। তবে রেখে যায় স্মৃতি ডানার শব্দ, কলতান আর শীতের সকালের অপার মুগ্ধতা।

শীতে নিঝুম দ্বীপে অতিথি পাখির এই আগমন শুধু প্রকৃতির ঘটনা নয়, এটি এক অনুভূতি। যারা একবার এই ডানার মেলায় হারিয়ে গেছে, তারা জানে নিঝুম দ্বীপ শীতে শুধু দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়।

ব্রেকিং নিউজ