ফেব্রুয়ারীর ১২ তারিখ হবে নির্বাচন; যা জানালো ইসি
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে দেশে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির শেষ সময় চলছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ইঙ্গিত অনুযায়ী ভোটগ্রহণ হতে পারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, বিশেষ করে ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো দিন। কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, এই সময়সীমাই আপাতত সম্ভাব্য হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে, আর বিভিন্ন প্রতিবেদনে ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ভোটের তারিখ হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি, ইসি জানিয়েছে যে ৭ ডিসেম্বরের এক বৈঠকের পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল প্রকাশ করা হবে।
আগামী ভোট আগে থেকেই গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ শুধু সংসদ নির্বাচনই নয়—এর সঙ্গে প্রথমবারের মতো একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে সারাদেশে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, ব্যালট পেপার মুদ্রণ, গোপন ভোটকক্ষ স্থাপনসহ নানা কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ভোট গ্রহণের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর কথাও বিবেচনায় রয়েছে, যাতে ভোটারদের ভিড় কমে এবং সবাই নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
নির্বাচনের মূল ফোকাস এখন ভোটারদের অংশগ্রহণে। তাই এখনই নিশ্চিত করে দেখা উচিত ভোটার তালিকায় নিজের নাম আছে কিনা এবং কোন কেন্দ্রে ভোট দিতে হবে—তা আগেই জেনে রাখা জরুরি। ভোটের দিনে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়া, পরিবারের অন্য সদস্য এবং প্রতিবেশীদের ভোট দিতে উৎসাহিত করা—সবই একটি দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয়।
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এই ভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো, প্রশাসনিক নীতি ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়েই দাবি করছে যে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের মতই দেশের ভবিষ্যৎকে পথে আনার সুযোগ তৈরি হয়।
সামগ্রিকভাবে এখন দেশে যে আলোচনা সবচেয়ে বেশি, তা হলো ভোট কবে—৮, ১০ নাকি ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে কমিশনের ইঙ্গিত, প্রস্তুতি এবং সংবাদমাধ্যমের তথ্য মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি দিনটি অত্যন্ত সম্ভাব্য হিসেবে সামনে আসছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তফসিল ঘোষণার সঙ্গেই জানা যাবে। তাই এখনই সবদিক থেকে প্রস্তুত হয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালনের জন্য ভোটারদের সচেতন হওয়ার সময়।

আপনার মতামত লিখুন