একজন ম্যাজিস্ট্রেটই বদলে দিল শাহাজালাল বিমানবন্দরের চিত্র
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিমানবন্দরকে ঘিরে যাত্রী হয়রানি, দালালচক্র, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, শৃঙ্খলার অভাব ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল নিত্যদিনের বিষয়। অনেকেই এসবকে নিয়তি বলে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চেনা চিত্র বদলাতে শুরু করেছে একজন নতুন ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই। দায়িত্বে এসেই তিনি প্রমাণ করেছেন, চাইলে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাধ্যমেই বড় পরিবর্তন সম্ভব।
নতুন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমানবন্দরের প্রতিটি স্তরে নজরদারি জোরদার করেন। যাত্রী হয়রানি, দালালদের দৌরাত্ম্য, অবৈধ সুবিধা নেওয়া কিংবা ‘বখশিশ সংস্কৃতি’—সবকিছুর বিরুদ্ধেই তিনি নেন দৃঢ় অবস্থান। কাগজে-কলমে নির্দেশনা নয়, বরং সরাসরি মাঠে নেমে অভিযান চালিয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, আইনের প্রয়োগ কীভাবে হতে পারে। ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রি, নিম্নমানের সেবা, কর্মীদের অনিয়ম—সবক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা যেমন স্বস্তি পাচ্ছেন, তেমনি অসাধু চক্রের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ভীতি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার কার্যক্রমে কঠোরতার পাশাপাশি মানবিকতার ছাপও স্পষ্ট। যাত্রীদের অভিযোগ তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন, সমস্যার দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেন এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। ফলে বিমানবন্দরে এখন শুধু শাসন নয়, বরং শৃঙ্খলার সঙ্গে সঙ্গে আস্থাও ফিরতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীদের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় উঠে আসছে প্রশংসা—অনেকে বলছেন, বহুদিন পর শাহজালাল এয়ারপোর্টে সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন চোখে পড়ছে।
একজন ম্যাজিস্ট্রেটের এই দৃঢ় ও সৎ ভূমিকা প্রমাণ করেছে, প্রশাসনিক দায়িত্ব যদি নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে পালন করা যায়, তবে বড় প্রতিষ্ঠানের চিত্রও বদলে দেওয়া সম্ভব। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ যে ইতিবাচক পরিবর্তনের বাতাস বইছে, তার পেছনে এই নতুন ম্যাজিস্ট্রেটের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করছেন না, বরং একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন—যা দেশের অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন