তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করেছেন জামায়াতের আমির, যা নিয়ে আলোচনা হল
১ লা জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকটি মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া’র মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাতে হওয়া একটি আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা দর্কারের অংশ ছিল। ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে শোকবইতে স্বাক্ষর করেন এবং পরে তারেক রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
সাক্ষাতের সময় বিএনপি-এর সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকের সঠিক সময়কাল ও নির্দিষ্ট আলোচনার সময়সীমা এখনও পরিস্কারভাবে জানানো হয়নি।
ডা. শফিকুর রহমান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান যে তারা জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অভিন্ন জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক সহযোগিতা স্থাপনে আগ্রহী। তিনি বলেন, “নির্বাচনের পরে ও সরকার গঠনের আগে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্ভাব্য ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি”, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমন্বয়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
জামায়াত-এর আমির আগেও প্রকাশ্যে বলেছেন যে অতীতে তাদের দল বিএনপি-এর সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করেছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও একইভাবে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে সহযোগিতা করা সম্ভব।
এই সাক্ষাতের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর আগেও দল দুটি দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দিক থেকে স্বাধীন ভাবে কাজ করে এসেছে। তাদের সাম্প্রতিক এই সংযোগটি বিশেষত ভবিষ্যতের নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক জোটগঠনের সম্ভাব্য দিক উভয়ের দিকেই ইঙ্গিত রাখছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে গত বছরগুলোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এসেছেন, এবং খালেদা জিয়া’র মৃত্যু দেশটির রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্র হয়ে উঠেছে, এবং জামায়াত-এর মত দলও গত কয়েক মাসে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান জোরদার করছে। সাম্প্রতিকভাবে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল যে জামায়াত-এর নেতৃত্ব সম্ভাব্য একটি ঐকমত্য ভিত্তিক সরকারের অংশ হওয়া নিয়ে উন্মুক্ত আস্থা প্রকাশ করেছে, যদিও সেই প্রেক্ষাপট নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
সাক্ষাত ও তার পরের বার্তাগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভবিষ্যতের জোট এবং ভোটের পূর্বাভাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে, বিশেষত যখন দলগুলো স্বাধীনভাবে থেকে আবার সহযোগিতার পথে এগোচ্ছে। তবে এগুলো কিভাবে বাস্তবে প্রভাব ফেলবে তা পরবর্তী রাজনৈতিক অগ্রগতি ও নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

আপনার মতামত লিখুন