নোয়াখালীতে কারাগারে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু, গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের অভিযোগ!
নোয়াখালীতে কারাগারে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু, গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের অভিযোগ!
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে নোয়াখালীর এক বিএনপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম আবুল বাশার (৪৫)। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ভবানী জীবনপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং নুর ইসলামের ছেলে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, আবুল বাশার স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং মাটি ও বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিহতের ভাই মনির হোসেন ও মহিন উদ্দিন অভিযোগ করে জানান, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা ঘর থেকে ১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর দুদিন থানায় আটকে রেখে আবুল বাশারকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পরে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়।
তারা আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেলে কারাগারে থাকা অবস্থায় আবুল বাশারের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে বুধবার ভোরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে জানতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোর্শেদ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আদালতে আছি। পরে কথা বলব।”
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, একটি ডাকাতি মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি আবুল বাশারকে কারাগারে আনা হয়। তিনি বলেন, “নিহতের দুই জন কেস পার্টনার আমাদের জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে মারধর করেছে। বিষয়টি জানার পর তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন