খুঁজুন
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯ মাঘ, ১৪৩২

জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না,,, তারেক রহমান 

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না,,, তারেক রহমান 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারে নি। বিএনপি আজ এই পর্য়ায়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। কাজেই আমার পরিকল্পনা বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা।

নির্বাচনী প্রচারণা এবং রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে
বৃহস্পতিবার (২৯জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নওগাঁ বাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখানে শীতে এসে কম্বল দিয়েছি। এই নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার গনতন্ত্র  পুনরুদ্ধারে অনেক অবদান রেখেছে।

তারেক রহমান বলেন, এখানে এসে শুনছি শুধু দাবি আর দাবি, এতো দাবি থাকলে গত ১৭ বছরে কি হলো? এই ১৭ বছরে উন্নয়ন হয়নি? আমরা যেহেতু এই দেশেই থাকবো, কাজেই আমাদেরই এই দেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্লেনে চড়ে আমাদের তো আর হুট করে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

তবে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ৮ জন প্রার্থীকে পরিচয় করে দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এরা নির্বাচিত হয়েই এলাকায় কাজ করবে। কাজেই আপনাদের এলাকার দাবি ও সমস্যা যারা দেখবেন তাদেরকে নির্বাচিত করবেন।

তারেক রহমান বলেন, এই জেলা ধানের ভান্ডার, এখানে বছরে তিনটি ধান উৎপাদন হয় যেটা জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়েছিল বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পর।

আমাদের প্রধান পেশা কৃষি। সেই জন্য কৃষকদের ভালো রাখতে হবে এবং সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মরহুমা খালেদা জিয়া ৫হাজার কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। এটা আমি রাজশাহীতে বলেছি, এখানেও বলছি। শুধু ঋণ মওকুফ করবো না, আমরা সকলকে কৃষক কার্ড তুলে দিব। এই কৃষি কার্ড দিয়ে একটা ফসলের সকল কিছু তুলে নিতে পারবে কৃষক, যাতে ওই কৃষকের অর্থনৈতিক ভীত শক্ত হয়। এবং প্রাকৃতিক ক্ষতি মোকাবেলা করতে পারে।

প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমানে এই জেলা আমের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু হিমাগার না থাকার অনেক ক্ষেত্রে আম পঁচে যায়। এই জন্য রেললাইন সংযোগের দিকে নজর দিব। যাতে স্বল্প মূল্যে ও স্বল্প সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আমা পাঠাতে পারে কৃষক।

তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে মেয়েদের পড়াশোনা পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিব। আর ছেলেদের খেলার জন্য আলাদা ভাবে চিন্তা করছি। শুধু পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার হতে হবে কেন? খেলোয়াড় হয়ে সুনাম অর্জন করা যায়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক আয় করা যায়।

গ্রামের মা ও বাচ্চাদের জন্য হেলথ কেয়ার দিব। যেন ঘরে বসেই তার ছোট ছোট অসুখ ঠিক করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ছেলেদের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি অঞ্চল গড়ে তুলবো। আর এই কাজে যারা এগিয়ে আসবে, কলকারখানা গড়ে তুলবে তাদেরকে স্বল্প মূল্যে ঋণের ব্যবস্থা করবো। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে। যারা আইটিতে দক্ষ তাদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করবো। সর্বোপরি সকল বেকার ও শিক্ষিতদের জন্য বিভিন্ন ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মসজিদ ও মাদরাসায় যারা খতিব, মোয়াজ্জেম আছেন তাদের জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মানুষকেও দেখবো।

উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের দাবি আমি পূরণ করবো, কিন্তু আপনারা কি করবেন, আপনারা ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করবেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হৈ হুল্লোড় করে হাত তালি দিলে তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার সামনে তাফালিং করে লাভ নেই। ১২ তারিখ ভোটের দিন দেখা যাবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখনও ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। এক পক্ষ চলে গেছে, আরেক পক্ষ আছে। এই এক পক্ষ পালিয়ে যাওয়াদের সাথে ছিল। তারা বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তাই আপনারা সতর্ক থাকবেন।

তাহাজ্জুদ পড়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বসে থাকবেন। এরপর ভোট শুরু হলে ভোট দিবেন। তবে খেয়াল রাখবেন লাইন নড়ে না কেন এই বিষয়ে, থাকবেন সতর্ক।

১৭ বছর পর দেশে এসে শুনছি গত ১৬ বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ঢাকায় কিছু মেঘা প্রকল্প হয়েছে আর মেঘা প্রকল্প মানেই মেঘা দুর্নিতী। তবে আমরা শহরের পাশাপাশি গ্রামের জন্য উন্নয়ন করতে চাই। কারণ গ্রামের উন্নয়ন হলেই দেশ উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, সকল শহীদসহ জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের ত্যাগের একটা মূল্য দিতে হবে। কারণ এই জুলাই যোদ্ধাদের আন্দোলনের কারণে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এসেছে। ফ্যাসিস্ট পালিয়ে গেছে। এখন পরিবর্তন করতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

জনসমুদ্রের নির্বাচনী এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম এবং জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি, রাজশাহী বিভাগের নেতা ওবায়দুল হক চন্দন বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলার বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কৃষি প্রধান জেলা হিসেবে নওগাঁকে আরও এগিয়ে নিতে বিএনপির প্রার্থীরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণাগার, সান্তাহার থেকে নওগাঁ হয়ে পার্শ্ববর্তী চাপাইনবয়াবগঞ্জ জেলার সাথে রেল যোগাযোগ ও স্ব স্ব উপজেলা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তুলে ধরেন অবহেলিত বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের কথা। সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দাবি তুলে ধরা যানজটের শহর নওগাঁয় চার লেন সড়কের বাস্তবায়ন এবং এ জেলায় গ্যাস সংযোগের দাবি জানান। সবশেষে উত্তরের এই জেলা ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে সকল প্রার্থী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সবগুলো আসন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

নওগাঁ ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি ইলিয়াস তুহিন বলেন, যই দল জীবন্ত মানুষকে মেরে ফেলে, যে দল একটা ভোটের জন মানুষকে জান্নাতের টিকেট দিতে চায় সেই দল কখনও ইসলামের দল হতে পারে না। অথচ ৭১ এর পর যখনই এই দল হোচট খেয়েছে তখনই বিএনপির হাত ধরে কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে হয়েছে। অথচ তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নওগাঁয় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
নওগাঁয় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

নওগাঁয় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর আত্রাইয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের উত্তরবিল (দরগাপাড়া) এলাকায় গ্রামবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের সাথে গোপন সম্পর্ক থাকায় কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া মামলা রুজু করা হয়েছে এবং নিরপরাধ ব্যাক্তিকে ফাসানো হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারী উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামে দুলালীর সাথে একই গ্রামের মিঠুর সাথে সীমানার প্রাচীর নিয়ে কাথা কাটাকাটি হয়। এরপর দুলালির ছেলে দুলালিকে ঘটনাস্থলে থেকে চলে যেতে বলে। দুলালি না গেলে তার ছেলের সাথে তার কথাকাটাকাটি হয় এবং ছেলে তাকে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পর দুলালি থানায় গিয়ে মিঠু সহ তিন জনের নামে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর দুলালি এলাকার সবাইকে ভয় দেখিয়ে নিষেধ করে, কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে তার নামেও মামলা দেওয়া হবে। মামলার পর পুলিশ কোন তদন্ত ছাড়াই মিঠুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর মামলার ভয়ে এলাকাবাসী গ্রামে থাকতে ভয় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে ইউনিয়নের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের জন প্রতিনিধি বুলু বলেন, এলাকাবাসী অনেক বার তাদের সঙ্গে বসেছে কিন্তু দুলালী কারো কোন কথা না শুনে সবাইকে ভয়ভীতি দেখায়। মিঠু নামের যে ছেলেকে ফাসানো হয়েছে সে অনেক ভালো ছেলে, কারো সাথে অন্যায় কাজ করেনি। কিন্তু তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাসানো হয়েছে। এস আই এর সাথে দুলালীর কি সম্পর্ক আছে যে, সে মাঝে মধ্যে এখানে এসে সময় দেয়। তার জন্যই দুলালী এত সাহস পায়।
মাজহারুল বলেন, দুলালী প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখায়। তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে চাইলে মামলার ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

লতা বলেন, দুলালীর পুলিশ ও ম্যাজিস্টেটের সাথে কি সম্পর্ক আছে আমরা বুঝতে পারছি না। কেউ কোন কিছু বললেই তাদের ভয় দেখিয়ে সবাইকে চুপ করাতে চায়। তার জন্য আমরা এলাকায় সস্তিতে থাকতে পারছি না।

আত্রাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শাহাজাদুল জানান, আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ন অভিযোগ মিথ্যা। তদন্তের জন্য আমি সেখানে গিয়েছি অন্য কোন উদ্দেশ্যে যাইনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দুলালীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল করিম ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি।

​স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মুড়াপাড়ায় দিপু ভূঁইয়ার বিশাল গণসংযোগ

​মোঃ রাশেদুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
​স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মুড়াপাড়ায় দিপু ভূঁইয়ার বিশাল গণসংযোগ

​স্বপ্নের রূপগঞ্জ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে মুড়াপাড়ায় দিপু ভূঁইয়ার বিশাল গণসংযোগ

​মোঃ রাশেদুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

​আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে রূপগঞ্জকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে আজ (রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি) দিনভর মুড়াপাড়া ইউনিয়নে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
​মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিপু ভূঁইয়া উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান। আমার লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, বরং আপনাদের সাথে নিয়ে একটি নিরাপদ ও সুন্দর রূপগঞ্জ গড়া। আগামী রূপগঞ্জ হবে উন্নয়নের রূপগঞ্জ, আগামীর রূপগঞ্জ হবে নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ঠিকানা। ইনশাআল্লাহ, আমরা রূপগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো।”
​এই প্রচারণায় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি.এম. ফারুক খোকন। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে প্রচারণায় আরও অংশ নেন মুড়াপাড়া বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া, যুবদলের আহবায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স, ওবায়দুল হোসেন রকি, সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের সাবেক ভিপি তারিকুল ইসলাম, আবুল আজাদ, আব্দুল মান্নান পারভেজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের এ কে বাবু, সোহেল রানা সহ মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
​গণসংযোগকালে মুড়াপাড়ার সাধারণ ভোটারদের মাঝে অভূতপূর্ব আমেজ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বৃদ্ধ থেকে যুবক—সবার কাছে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করেন দিপু ভূঁইয়া। স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে বিএনপি নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি মুড়াপাড়া ইউনিয়ন থেকে রেকর্ড পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে এবং এই বিজয় হবে রূপগঞ্জের গণমানুষের স্বপ্নের বিজয়।
​কর্মসূচি শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনাসহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে উপস্থিত শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে অংশ নেন।

মাদারগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

হৃদয় হাসান মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

মাদারগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর

পদত্যাগ
হৃদয় হাসান
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :

দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে জামালপুরের মাদারগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের জেলা, উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে মাদারগঞ্জ মডেল থানার সংলগ্ন একটি ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা, নীতিগত অবস্থান ও আদর্শিক রাজনীতির ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসব কারণে জামালপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল মন্ডল, মাদারগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাকিরম্নল ইসলাম জাকির, মেলান্দহ উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব শাহিন আলম, মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম হিরার নেতৃত্বে জেলা, উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন। এ তালিকায় প্রবাসী অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি জাকিরম্নল ইসলাম জাকির বলেন, “বিগত ছয়-সাত বছর ধরে তৃণমূল পর্যায়ে শ্রম দিয়ে দলটি গড়ে তুলেছি। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের যে আদর্শ ও রাজনীতি দেখেছি, বর্তমান দলীয় অবস্থান তা থেকে অনেকটাই সরে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “জামালপুর-৩ আসনে প্রথমে প্রার্থী ঘোষণা করে মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তা পরিবর্তন করা হয়। সারা দেশে ৯৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে আমরা সন্তুষ্ট থাকলেও হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন মেনে নিতে পারিনি।”
নেতাদের ভাষ্য, এসব বিষয়ে প্রায় ১৫০ জন নেতাকর্মী কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আপত্তি জানালেও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি। এতে দলীয় সিদ্ধান্তহীনতা ও আদর্শগত দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন।
পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে নেতারা জানান, দলীয় নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসাই তাদের পদত্যাগের মূল কারণ। বর্তমানে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলেও জানান।
পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—জামালপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি আল আমিন মন্ডল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, জেলা যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. সি. শহীদ আহম্মেদ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল কাইয়ুম, কর্ম ও সমবায় সম্পাদক সুমন শেখ, মেলান্দহ গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ পলাশ, মেলান্দহ যুব অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি রিপন মাহমুদসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, “যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা প্রকৃত অর্থে দলকে বুকে ধারণ করেননি। তাদের চলে যাওয়ায় দলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।” তিনি আরও বলেন, সংগঠন আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

ব্রেকিং নিউজ