খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

পাবনা জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপি জামায়াতেরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
পাবনা জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপি জামায়াতেরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

পাবনা জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপি জামায়াতেরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

আরাফাত সরদার,ঈশ্বরদী ।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, পাবনা জেলার পাঁচটি আসন এলাকায় উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকেই জেলার শহর, বন্দর, গ্রামীণ হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। মিছিল-মিটিং, জনসভা, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ,বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা ও জনসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনি এলাকা। মাইকিংয়ের উচ্চ শব্দে শহর ও গ্রামবাসীদের কান ঝালাপালা,অনেকেই বিরক্ত আবার অনেকেই দীর্ঘদিন পর ভোটের আমেজে অনন্দ উপভোগ করছেন। রাতদিন প্রচার-প্রচারণার কাজে প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের গলদঘর্ম অবস্থা। ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা কম নেই। কার প্রার্থী কত যোগ্য তা নিয়ে বিতর্ক ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য নানা কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জামায়াত বিএনপির কেউই স্বস্তিতে নেই। ভোটাররা বলছেন, পাবনা জেলার পাঁচটি আসনেই হাড্ডাহাডি লড়াই হবে। এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মানদন্ড হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার অভিজ্ঞতা তরুণসহ সব ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। তরুণ ভোটারের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঈশ্বরদীসহ পাবনা জেলার মোট ৫টি আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ নয়টি দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৮ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াসহ ৩টি আসনে রয়েছেন ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা এবং প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে রাতদিন ভোটাদের দ্বারেদ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। জেলার ৫টি আসনে প্রায় ২৩ লাখ ভোটারের মনজয় করে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায় করতে প্রার্থীদের চোখে এখন আর ঘুম নেই।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি,বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ ভোটারতের দেওয়া তথ্য মতে, পাবনা জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে লড়াই হলেও পাবনা-৪ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলই জেলার পাঁচটি আসনের সবকটিই নিজেদের কব্জায় নিতে এবং বিগত সময়ে হারানো আসন নিজেদের পুনরুদ্ধাদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আসনগুলোতে জয়ের মালা কার গলায় উঠে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

# পাবনা-৫ ।। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৫ (পাবনা জেলা সদর উপজেলা) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কোনো পক্ষই এখনো নিশ্চিত জয়ের নিশ্চয়তায় নেই। বরং ব্যস্ত নিজ নিজ কৌশল সাজানো ও পালটা কৌশল মোকাবিলায়। ৪৩৯ বর্গকিলোমিটারব্যাপী ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাবনা সদর-৫, নির্বাচনি এলাকা-৭২। আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬২ হাজার ৫৯৮ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৫ জন আর তৃতীয় লিঙ্গ তিন জন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট নতুন বা তরুণদের ভোট।
এ আসনের গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, চায়ের দোকান কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবখানেই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয় সংসদ নির্বাচন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সভাসমাবেশ,লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক ও ঘরোয়া মতবিনিময়। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। শুনছেন মানুষের প্রত্যাশা ও অভিযোগ। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হুসাইন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হোসাইন (হাতপাখা)। তথ্যমতে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এর আগে ২০০১ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সোবহান নির্বাচিত সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল ছাড়া এ আসনে বিএনপির কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে ২০০০ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ডা. মাজহার আলী কাদেরী নির্বাচিত হন।
আওয়ামীলীগ না থাকায় এ আসনে এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদ্বয়। ফলে আগামী নির্বাচনে এই দুই দলের মধ্যেই হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ভোটাররা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সচেতন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা। অনেক ভোটার বলছেন, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সংকটে পাশে থাকার ভূমিকা এবার নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথম বারের ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিচ্ছেন পৃথক পৃথক কৌশল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। ভিডিও বার্তা, পোস্টার, স্লোগান ও ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
—–
# পাবনা-৪: ঈশ্বরদী ও আটঘরিয় উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি। আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাত জন। এদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপি আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এর মধ্যে। তবে এই আসনে জাকারিয়া পিন্টু বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী রয়েছেন। পূর্বেও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১৯৯৬ সালে হাবিবুর রহমান হাবিব কুড়াল প্রতিক নিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে কুড়াল প্রতিক নিয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পর থেকে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। আসন্ন নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আসনটি পুনরুদ্ধার করা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়িপাল্লার বিজয়ের পথ সুগম হয়েছে । এই তিনজন প্রার্থী তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। এছাড়া সিপিবি থেকে কমরেড সোহাগ হোসেন, জাতীয় পার্টির সাইফুল আজাদ মল্লিক, ইসলামি আন্দোলনের মাওলানা আনোয়ার হোসেন শাহ, নাগরিক ঐক্য থেকে শাহনাজ হক প্রার্থী হিসেবে স্বল্প পরিসরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

# পাবনা-৩: পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন পাবনা-৩। চলনবিল অধ্যুষিত এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়ছে উত্তাপ। ভোটারদের মতে, এবার এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ লড়াই হবে।
আসন এলাকার বাইর থেকে প্রার্থী করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েঠছ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনের মাঠে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ভোটযুদ্ধে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে।
এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মানদন্ড হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্ল¬ষ্টরা। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার অভিজ্ঞতা তরুণদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। এসব তরুণ ভোটারের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এবারের নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পাবনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আলী আছগার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কের্ন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৩ আসনের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে চাটমোহরে ২ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ জন, ভাঙ্গুরাায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৮ জন এবং ফরিদপুরে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭১৯ জন ভোটার রয়েছেন।
ভোটারদের ভাষ্য, স্থানীয় প্রার্থী হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে ফরিদপুর উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাসান জাফর তুহিন কিছুটা এগিয়ে থাকবেন। একই কারণে ভাঙগুড়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের মুহাম্মদ আলী আছগার এবং চাটমোহরে ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এগিয়ে থাকতে পারেন। ভোটারদের এই ধারণা সত্য হলে, ভোটের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে চাটমোহর উপজেলা। তিন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার এখানেই। প্রায় ৫ লাখ ভোটারের এই আসনে চাটমোহর উপজেলায় ভোটারের সংখ্যা অন্য দুই উপজেলার সম্মিলিত সংখ্যার কাছাকাছি। দীর্ঘদিন এ উপজেলা থেকে কোনো সংসদ সদস্য না থাকায় এবারের নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

# পাবনা-২ ।। এ আসনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা থাকলেও ভোটাররা বলছেন, লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। আলোচনার শীর্ষে আছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমীর সহকারী অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন।
জানা যায়, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে পূর্বের ৬৯, পাবনা-২ আসনের সঙ্গে বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন যুক্ত হয়ে নতুনভাবে গঠিত হয়েছে ৬৯,
পাবনা-২ সংসদীয় আসন (সুজানগর-বেড়া)। পূর্বে পাবনা-২ আসনটি গঠিত ছিল সুজানগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে। তবে সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে এখন পুরো সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে এই সংসদীয় আসন। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মিছিল চালিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতে করে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বীতা দিন দিন বাড়ছে।
বিগত নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই আসন থেকে ছয় বার আওয়ামী লীগ, চার বার বিএনপি এবং এক বার জাতীয় পার্টি প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আসন থেকে জয়ী কোনো সংসদ সদস্যকে কখনো বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়নি। ফলে অনেকের কাছেই পাবনা-২ আসনটি ‘ক্ষমতার চাবিকাঠি’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এ এলাকার ভোটারদের কাছে পরিচিত ও পরীক্ষিত মুখ। বেড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনের মাঠে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ভোটযুদ্ধে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে।

পাবনা-১ ।। সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি। পূর্ব থেকেই এই আসনটিতে জামায়াতের প্রভাব রয়েছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমীর মরহুম মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মোঃ শামসুর রহমান। মূলত: এই দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট যুদ্ধ হবে।
পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুুতি নেয়া হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

Fahim Islam
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম

দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তিনি একাধিকবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। তবুও দলীয় আদর্শে অটল থেকে এলাকায় সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে জলমা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সুশাসিত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। জাহিদুল ইসলামের সমর্থকরা আশাবাদী, জনগণের ভোটে তিনি বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত সূচনা করবেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

Shakib Ahsan
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

সাকিব আহসান
পীরগঞ্জ,ঠাকুরগাঁও

উত্তরবঙ্গের এই দুই ভূখণ্ডের সম্পর্ক কেবল সীমান্তঘেঁষা প্রতিবেশিত্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতির দীর্ঘস্থায়ী এক জটিল সমীকরণ।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে বোচাগঞ্জ বর্তমানে দিনাজপুর জেলা-এর অন্তর্ভুক্ত হলেও, পীরগঞ্জের সঙ্গে এর সম্পর্কের শেকড় প্রোথিত রয়েছে অতীতে, যা আজও নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল বৃহত্তর দিনাজপুরের অংশ ছিল। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত প্রশাসনিক কাঠামো, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং বাজার অর্থনীতি—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। জমিদারি প্রথার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারগুলো উভয় এলাকাতেই কর্তৃত্ব বিস্তার করত। ফলে পীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জের মানুষের মধ্যে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। বিবাহ, উৎসব, হাট-বাজার—সব ক্ষেত্রেই ছিল একধরনের আন্তঃনির্ভরতা।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই দুই উপজেলার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পীরগঞ্জের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ধান, গম ও ভুট্টা, বোচাগঞ্জের বাজারে সহজেই প্রবেশ করত। আবার বোচাগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পীরগঞ্জের হাটগুলোকে ব্যবহার করতেন পণ্য সরবরাহের জন্য। স্থানীয় হাট যেমন—গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র—দুই উপজেলার মানুষের জন্য ছিল এক যৌথ প্ল্যাটফর্ম। এতে করে একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হয়, যা প্রশাসনিক বিভাজনের পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তবে ১৯৮৪ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই সম্পর্কের গতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। বোচাগঞ্জ দিনাজপুরের অধীনে থেকে যায়, আর পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁওয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে। এই বিভাজন উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট বণ্টন এবং অবকাঠামোগত অগ্রাধিকারে পার্থক্য সৃষ্টি করে। ফলে পূর্বের সমন্বিত অগ্রযাত্রা ধীরে ধীরে ভিন্নমুখী হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিকভাবে, এই দুই উপজেলার কিছু প্রভাবশালী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। তারা নির্বাচন, দলীয় রাজনীতি, এমনকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করেছে। এই পরিবারগুলোকে অনেকেই “অঞ্চলের মস্তিষ্ক” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান প্রায়শই বৃহত্তর জনমতের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—এই প্রভাব কি সর্বদা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়েছে?
বাস্তবতা হলো, কিছু ক্ষেত্রে এসব রাজনৈতিক পরিবারের ইতিবাচক ভূমিকা যেমন রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, সড়ক উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ—তেমনি রয়েছে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগও। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের দ্বৈত অনুভূতি তৈরি হয়েছে—একদিকে নির্ভরতা, অন্যদিকে অসন্তোষ।
বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সমন্বিত বাজার ব্যবস্থার অভাব এবং প্রশাসনিক ভিন্নতার কারণে যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না। অথচ কৃষিভিত্তিক শিল্প, সংরক্ষণাগার, এবং আন্তঃউপজেলা বাণিজ্যিক করিডোর গড়ে তোলা গেলে এই অঞ্চল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হতে পারে।
এখানেই আসে কৌশলগত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন। প্রথমত, দুই উপজেলার মধ্যে অবকাঠামোগত সংযোগ—বিশেষ করে সড়ক ও পরিবহন—উন্নত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, যৌথ হাট-বাজার আধুনিকায়ন ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তঃজেলা সমন্বয় বাড়িয়ে একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ফোরাম গঠন করা সম্ভব, যেখানে উভয় উপজেলার প্রতিনিধিরা একসঙ্গে পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
সবশেষে বলা যায়, পীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জের সম্পর্ক কোনো সাধারণ ভৌগোলিক সংযোগ নয়; এটি একটি জীবন্ত ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। প্রশাসনিক বিভাজন এই সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় নিয়ে গেলেও, এর অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বন্ধন এখনো অটুট। এই বন্ধনকে যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনর্গঠন করা যায়, তবে এটি উত্তরবঙ্গের জন্য একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠতে পারে।

পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

Sakib Ahsan
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে নতুন নতুন ফসলের আবাদে এগিয়ে আসছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জি-৯ জাতের কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ এবং বিভিন্ন জাতের আঙুর চাষ ইতোমধ্যে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্যমতে, এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে কৃষির চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে জি-৯ জাতের কলার আবাদ করা হয়েছে। এটি মূলত সাগর কলার একটি উন্নত জাত, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—গাছ থেকে কলা কাটার পরও ২০ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত পাকার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলে। ফলে সংরক্ষণ ও পরিবহনে সুবিধা হয়, যা রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।
তিনি আরও বলেন, “এই জাতের কলা দীর্ঘ সময় ভালো অবস্থায় থাকে বলে দেশের বাইরে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে কৃষকেরা এখান থেকে ভালো লাভবান হতে পারবেন।”
অন্যদিকে, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ হিসেবে পরিচিত শীতকালীন পেঁয়াজ বীজের আবাদও পীরগঞ্জে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এই বীজের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
কৃষি কর্মকর্তা জানান, “কৃষকেরা যদি ন্যায্য মূল্য পান, তাহলে আগামী মৌসুমে এই পেঁয়াজ বীজের আবাদ আরও বিস্তৃত হবে। এটি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বড় বাজার তৈরি করতে পারে।”
এছাড়া উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৮ থেকে ১০টি জাতের আঙুর চাষ শুরু হয়েছে, যা বর্তমানে প্রায় ৮০ শতক জমিতে বিস্তৃত। দেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিকভাবে ফলাফল আশাব্যঞ্জক। যদি উৎপাদন ভালো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আঙুর চাষের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।”
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, নতুন এসব ফসল চাষে শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় তারা এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে লাভজনক বাজার নিশ্চিত হলে কৃষিতে এই পরিবর্তন আরও গতি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একক ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখী চাষাবাদ কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কমায় এবং আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে। পীরগঞ্জে জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষের এই উদ্যোগ সেই পথেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পীরগঞ্জের কৃষি খাত আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই হয়ে উঠবে।

ব্রেকিং নিউজ