বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে রূপগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ, ৮ কিমি যানজটে চরম ভোগান্তি
-
বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে রূপগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ, ৮ কিমি যানজটে চরম ভোগান্তি
মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ , রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার তারাব পৌরসভার খাদুন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, তারাব পৌরসভার খাদুন এলাকার ‘ভূঁইয়া ফেব্রিকস’ নামক পোশাক কারখানায় প্রায় ৪শ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং আসন্ন ঈদ বোনাস বকেয়া থাকলেও মালিকপক্ষ তা পরিশোধে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছিল। বুধবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দিতে এলে কর্তৃপক্ষ জানায়, বকেয়া পাওনা আগামী ১৮ মার্চ পরিশোধ করা হবে। এই সংবাদে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পাওনা আদায়ের দাবিতে কারখানার সামনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শ্রমিকদের আকস্মিক এই অবরোধে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কাঁচপুর থেকে ভুলতা পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে, যা যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য অবর্ণনীয় ভোগান্তি সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ আগামীকাল ১২ মার্চ বেতন ও বোনাস পরিশোধের চূড়ান্ত আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়ে পুনরায় কাজে যোগ দেন। এরপর থেকেই মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন আহমেদ বলেন, মালিকপক্ষ আগামীকাল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস প্রদানের আশ্বাস দেওয়ায় শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।

আপনার মতামত লিখুন