খুঁজুন
সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ২ চৈত্র, ১৪৩২

ঈদকে তুরুপের তাস, তেলের সংকটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, প্যানিক বাইং ও বাজার সিন্ডিকেটের চাপে সাধারণ মানুষ!!!

Sakib Ahasan
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ঈদকে তুরুপের তাস, তেলের সংকটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, প্যানিক বাইং ও বাজার সিন্ডিকেটের চাপে সাধারণ মানুষ!!!

ঈদকে তুরুপের তাস, তেলের সংকটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, প্যানিক বাইং ও বাজার সিন্ডিকেটের চাপে সাধারণ মানুষ!!!

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

ঈদ ঘনিয়ে এলে দেশের বাজারে সাধারণত উৎসবের আমেজ দেখা যায়। কিন্তু সেই আনন্দ অনেক সময় চাপা পড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের প্যানিক বাইং অর্থাৎ আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা। এই পরিস্থিতিকে অনেক ব্যবসায়ী ও মুনাফাখোর গোষ্ঠী যেন তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলাফল ড়ড়সীমিত আয়ের মানুষদের নিত্যদিনের সংসার ব্যয় হয়ে উঠছে অসহনীয়।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ঈদের আগমুহূর্তে ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাড়ে। কিন্তু সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে যখন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খুচরা বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া কিংবা দোকানে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লেই ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে তখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করতে শুরু করেন। এই মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়াকেই বলা হয় প্যানিক বাইং।
সমস্যা হলো, এই আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু ব্যবসায়ীচক্র বাজারে প্রভাব বিস্তার করে। তারা কখনো গুদামে পণ্য আটকে রাখে, কখনো সরবরাহ কমিয়ে দেয়, আবার কখনো পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে খুচরা বাজারে এসে তেলের দাম হয়ে যায় গগণছোঁয়া। অথচ উৎপাদন বা আমদানি পর্যায়ে এমন বড় ধরনের সংকট থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যানিক বাইং মূলত একটি চেইন রিঅ্যাকশন। বাজারে গুজব বা সীমিত সরবরাহের খবর ছড়ালেই ক্রেতারা আতঙ্কে বেশি করে কিনতে শুরু করেন। সেই অতিরিক্ত চাহিদা আবার বাজারে বাস্তব সংকট তৈরি করে। এই সুযোগেই মুনাফাখোররা দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
একজন দিনমজুর বা স্বল্প আয়ের চাকরিজীবীর জন্য রান্নার তেল একটি মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য। যখন এই পণ্যের দাম হঠাৎ করে কয়েক দফা বেড়ে যায়, তখন তাদের সংসারের হিসাব এলোমেলো হয়ে যায়। একজন রিকশাচালক বা শ্রমিকের দৈনিক আয়ে পরিবার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে বাধ্য হওয়া যেন এক ধরনের নীরব শাস্তি।
ঈদকে ঘিরে এই পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। উৎসবের সময় মানুষ একটু ভালো খাওয়ার প্রত্যাশা করে। কিন্তু বাজারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেই আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে। অনেক পরিবার তখন বাধ্য হয়ে খাদ্যতালিকা সংকুচিত করে ফেলে। উৎসবের খাবারের পরিবর্তে চলে আসে কঠোর মিতব্যয়িতা।
পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপকের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকির অভাব থাকলে এমন পরিস্থিতি বারবার তৈরি হবে। পণ্যের সরবরাহ, মজুত ও মূল্য নির্ধারণের প্রতিটি স্তরে যদি কঠোর নজরদারি না থাকে, তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদের মধ্যেও সচেতনতা প্রয়োজন, যাতে গুজব বা আতঙ্কে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা না বাড়ে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার তদারকি, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যের দোকান ও সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
ঈদ মানুষের আনন্দ ও ভাগাভাগির উৎসব। কিন্তু যখন বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন সেই আনন্দের জায়গা দখল করে নেয় হতাশা। ভোজ্যতেলকে ঘিরে প্যানিক বাইং এবং মুনাফাখোরদের কারসাজি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও।
কারণ একটি সমাজ তখনই সুস্থ থাকে, যখন উৎসবের আনন্দ ধনী-গরিব সবার ঘরেই সমানভাবে পৌঁছাতে পারে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে বাজারের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

গাইবান্ধায় পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার,উদ্যোক্তা একঝাঁক তরুণ-তরুণী

Shah Parvez Songram
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
গাইবান্ধায় পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার,উদ্যোক্তা একঝাঁক তরুণ-তরুণী

গাইবান্ধায় পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার,উদ্যোক্তা একঝাঁক তরুণ-তরুণী

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় তরুণদের উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে “গাইবান্ধা ইকোসাইকেল: বন্যা সহনশীল সবুজ অর্থনীতির জন্য তরুণদের উদ্ভাবন” প্রকল্পের আওতায় একটি ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১৫ই মার্চ) গাইবান্ধার কামারজানিতে সকালে “লোকাল গ্রিন মার্কেট স্টলস অ্যান্ড প্রোডাক্ট সেলিং” শীর্ষক এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেন।অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সৃজনশীল গাইবান্ধা। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ভিএসও বাংলাদেশ।এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে উৎসাহিত করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, টেকসই জীবনধারা প্রচার করা এবং বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে সবুজ অর্থনীতির ধারণা শক্তিশালী করা।
সৃজনশীল গাইবান্ধার সভাপতি মোঃ মেহেদী হাসান বলেন,আমাদের লক্ষ্য হলো তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গাইবান্ধায় একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে আমরা সবুজ পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি।

সবজি উদ্যোক্তা রুপালি রানী বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এখানে আমরা আমাদের উৎপাদিত তাজা সবজি ও পরিবেশবান্ধব পণ্য সরাসরি মানুষের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছি।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও তরুণরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৃজনশীল গাইবান্ধার সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, প্রকল্প কর্মকর্তা আতহার মিহদা তুবা, হিসাব কর্মকর্তা রঞ্জন দেবনাথ, কার্যনির্বাহী সদস্য নওশা মিয়া, ব্রাদারহুড কামারজানী সংগঠনের সদস্য শাহিন সরকার প্রমুখ।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সবুজ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই জীবনধারা প্রচার এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

গোপালগঞ্জে স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মহাবারুনী মেলা

MD Sohan Sheikh
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মহাবারুনী মেলা

গোপালগঞ্জে স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মহাবারুনী মেলা

​মোঃ সোহান শেখ, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

  • গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে অবস্থিত মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ২১৫তম স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মহাবারুনী মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

এই অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্নভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ ঠাকুর, কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহিন মিয়া, কাশিয়ানী থানার ওসি মোঃ মাহফুজুর রহমান বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শন কালে তাঁরা ঠাকুর বাড়ির উত্তরসূরী পদ্মনাভ ঠাকুর, সম্পদ ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুরের সাথে কথা বলেন। স্নানোৎসব ও মেলার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং অনুষ্ঠানের দিন আইন-শৃংখলা রক্ষা সহ সব ধরনের সহায়োগিতার আশ্বাস দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তফা মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাহিত্য ও প্রকাশনা সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান লিমন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম সোহেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, আগামী ১৬ মার্চ সকাল সাড়ে আটটায় স্নান শুরু হয়ে চলবে পরের দিন ১৭মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় পর্যন্ত। তবে মেলা চলবে ১৮ মার্চ পর্যন্ত।

পাকশী থেকে ২ টি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার

Arafat Sardar
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
পাকশী থেকে ২ টি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার

পাকশী থেকে ২ টি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার

আরাফাত সরদার ( ঈশ্বরদী)
ঈশ্বরদীর পাকশী বাজার জামে মসজিদের নিকটস্থ স্থান থেকে লাল ও হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ২ টি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড তাজা সিসা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর বারোটায় পাকশী ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা এগুলো উদ্ধার করে।

পাকশী ফাঁড়ি পুলিশ সূত্রে জানাগেছে,কিছু দুস্কৃতিকারী উক্ত এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গুলি সহ এ এলাকায় অবস্থান করাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রগুলি উক্তস্থানে লুকিয়ে পালিয়েছে । উদ্ধারকৃত অস্ত্র গুলি সংক্রান্ত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের পর এলাকার একাধিক সূত্র জানায়,কিছু সন্ত্রাসী ব্যক্তি যারা অস্ত্রের ব্যবসা করে।হঠাৎপাড়া এলাকায় তাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। ঐক্তিরা মাদক আমদানী থেকে শুরু করে এহেন অপরাধ নেই যেটা তারা করা থেকে বিরত থাকে। তাদের এসব অপরাধের সাথে দু;একজন ব্যবসায়ী পুলিশ সদস্যের যোগাযোগ রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজ