রাজারহাটে বিএনপির প্রশাসক পদে আলোচনার শীর্ষে আনিছুর রহমান লিটন
রাজারহাটে বিএনপির প্রশাসক পদে আলোচনার শীর্ষে আনিছুর রহমান লিটন
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
১৮-৩-২০২৬ ইং।
সারাদেশে দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করতে বিএনপির প্রশাসক নিয়োগের গুঞ্জনের মধ্যেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসক পদে কে পাচ্ছেন দায়িত্ব, তা নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। তবে মাঠপর্যায়ের সক্রিয় সূত্র ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে আলোচিত নামটি এখন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান লিটন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্প্রতি বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্বশীল ও তৃণমূলমুখী নেতাদের প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়টি দলের শীর্ষ মহল থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজারহাটে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার সক্ষমতায় আনিছুর রহমান লিটনের নামটিই এখন পর্যন্ত আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন লিটন। ১৯৯৭ সালে মীর ইসমাঈল হোসেন ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তার নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ পেতে থাকে। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক সক্রিয়তায় তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠনকে বেগবান রেখেছেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা ও গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাকে উপজেলাজুড়ে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
তবে এই সম্ভাবনাকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তা না হওয়া পর্যন্ত সবকিছুই সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, সম্ভাব্য এই নিয়োগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মাত্রার প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ মনে করছেন, তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে লিটনের মতো নেতা প্রশাসকের দায়িত্ব পেলে রাজারহাটের বিএনপি নতুন গতিশীলতা ফিরে পাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় কাঠামোতে প্রশাসক নিয়োগ কার্যকর হলে তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রাজারহাটে প্রশাসক কে হবেন, তা নিয়ে গুঞ্জন ও কৌতূহল বিরাজ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্যই অপেক্ষা করছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন।

আপনার মতামত লিখুন