ঠাকুরগাঁওয়ে ফুয়েল কার্ডে তেল বিক্রি শুরু, লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের ভোগান্তি
হাসিনুজ্জামান মিন্টু ,
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। তবে নতুন এই নিয়ম চালু হলেও সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি কমেনি। তেল নিতে অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনকে জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তেল পেতে চালকদের ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেকেই সকাল ৪টা থেকে ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টায় তেল বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছু কিছু স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রথম দিনে প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে নির্ধারিত পরিমাণের পরিবর্তে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখন তেল পাওয়া যাবে সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে যাদের কাছে ফুয়েল কার্ড নেই, তারা অনেকেই ফিলিং স্টেশনে এসে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে তেল বিক্রিতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তেল বিতরণ করা এখন সহজ হচ্ছে।
স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড যাচাই করে কঠোরভাবে তেল দেওয়া হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনোভাবেই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
তবে চালকদের দাবি, শুধু নতুন নিয়ম চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন