খুঁজুন
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর: ইতিহাসের বাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ, তীব্র বিতর্ক দেশে-বিদেশে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০২ অপরাহ্ণ
ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর: ইতিহাসের বাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ, তীব্র বিতর্ক দেশে-বিদেশে

দোয়েল নিউজ ডেস্ক | ঢাকা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর–খ্যাত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর ও ধ্বংসকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল তর্ক-বিতর্ক চলছে।

কী ঘটেছে ধানমন্ডি ৩২ এ?

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত এই বাড়িটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের বহু সদস্যের সঙ্গে এখানেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরবর্তীতে এই বাড়িটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হয়।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এ বাড়িটিকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা বুলডোজার ও ভারী যন্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
চোখের সামনে ভাঙা হয় বাড়ির দেয়াল, ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলা হয় বিভিন্ন কক্ষের অংশ, ভেতরের বহু স্মারক ও সামগ্রী তছনছ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও আগুনও দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়েছে নানা গণমাধ্যম।

‘জনরোষ’ নাকি পরিকল্পিত ধ্বংস?

এ ঘটনার পর থেকেই মূল বিতর্ক ঘুরছে এক প্রশ্নকে ঘিরে—
এটি কি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ, নাকি পরিকল্পিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের চেষ্টা?

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দাবি করছে,

  • দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন, দমন-পীড়ন, গুম–খুন ও দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে তারা ধানমন্ডি ৩২–কে টার্গেট করেছে।

  • তাদের ভাষায়, “ইতিহাসের নামে একদলীয় প্রচারণার স্মারক ভেঙে ফেলা হয়েছে।”

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণকারী নাগরিক সমাজের অনেকেই বলছেন,

  • যে বাড়িতে ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে,

  • যে বাড়ি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মলগ্নের নানা সিদ্ধান্তের সাক্ষী,
    তাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধের নামে’ ভেঙে ফেলা ইতিহাস, স্মৃতি ও রাষ্ট্রের স্বীকৃত ঐতিহ্যের ওপর নগ্ন আঘাত।

রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এ হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়েও তোলপাড় চলছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—

  • এতো বড় একটা ঐতিহাসিক স্থাপনায়

  • দিনের বেলায়

  • বুলডোজার ও ভারী যন্ত্র নিয়ে লোকজন প্রবেশ করে ভাঙচুর চালালো,

তবু কেন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা গেল না?
একে অনেকেই “নীরব সম্মতি” বা “চোখ বন্ধ করে থাকা” বলে সমালোচনা করছেন।

সরকারি মহল অবশ্য বলছে, পরিস্থিতি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, এবং পরবর্তীতে তারা এলাকা ঘিরে ফেলে নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকিয়েছে।

রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

এ ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন।

  • এক পক্ষ বলছে, এটি “স্বৈরাচারবিরোধী জনবিক্ষোভের অংশ”, যেখানে প্রতীকী লক্ষ্য হিসেবে ধানমন্ডি ৩২ নির্বাচন করা হয়েছে।

  • অন্য পক্ষের দাবি, এই হামলার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ফলে ধানমন্ডি ৩২ এখন কেবল একটি ভাঙা বাড়ি নয়—
এটি হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতি, ইতিহাস ও পরিচিতি নিয়ে নতুন করে বিভক্তির প্রতীক।

নতুন প্রজন্ম কী ভাবছে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মও এ ঘটনাকে ঘিরে দুই মেরুতে বিভক্ত—

  • কেউ লিখছে, “ইতিহাস মানে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো জাতি। সেই ইতিহাসের বাড়ি ভাঙা মানে নিজেদের অতীতকে ভাঙা।”

  • অন্য কেউ বলছে, “যারা বছরের পর বছর জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে, তাদের প্রতীকী পতন হয়েছে মাত্র।”

এদিকে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের একটি অংশ সতর্ক করে বলেছেন,
রাজনৈতিক রাগ বা প্রতিশোধের নামে ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস করলে পরবর্তী প্রজন্মের শেখার জায়গা কমে যাবে, আর ভবিষ্যতে সত্য–মিথ্যা আলাদা করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

সামনে কী হতে পারে?

ধ্বংস হওয়া ধানমন্ডি ৩২–কে ঘিরে এখন দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি বড় প্রশ্ন—

  1. রাষ্ট্র কি এই জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পুনর্গঠন করবে?

  2. এ ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি?

  3. ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করে ইতিহাস–সম্পৃক্ত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি?

বিশ্লেষকদের মতে, যেভাবেই হোক, ধানমন্ডি ৩২–এর ভবিষ্যৎ ঠিক করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও ইতিহাস–বোধের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

Fahim Islam
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম

দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তিনি একাধিকবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। তবুও দলীয় আদর্শে অটল থেকে এলাকায় সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে জলমা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সুশাসিত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। জাহিদুল ইসলামের সমর্থকরা আশাবাদী, জনগণের ভোটে তিনি বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত সূচনা করবেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

Shakib Ahsan
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

সাকিব আহসান
পীরগঞ্জ,ঠাকুরগাঁও

উত্তরবঙ্গের এই দুই ভূখণ্ডের সম্পর্ক কেবল সীমান্তঘেঁষা প্রতিবেশিত্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতির দীর্ঘস্থায়ী এক জটিল সমীকরণ।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে বোচাগঞ্জ বর্তমানে দিনাজপুর জেলা-এর অন্তর্ভুক্ত হলেও, পীরগঞ্জের সঙ্গে এর সম্পর্কের শেকড় প্রোথিত রয়েছে অতীতে, যা আজও নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল বৃহত্তর দিনাজপুরের অংশ ছিল। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত প্রশাসনিক কাঠামো, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং বাজার অর্থনীতি—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। জমিদারি প্রথার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারগুলো উভয় এলাকাতেই কর্তৃত্ব বিস্তার করত। ফলে পীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জের মানুষের মধ্যে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। বিবাহ, উৎসব, হাট-বাজার—সব ক্ষেত্রেই ছিল একধরনের আন্তঃনির্ভরতা।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই দুই উপজেলার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পীরগঞ্জের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ধান, গম ও ভুট্টা, বোচাগঞ্জের বাজারে সহজেই প্রবেশ করত। আবার বোচাগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পীরগঞ্জের হাটগুলোকে ব্যবহার করতেন পণ্য সরবরাহের জন্য। স্থানীয় হাট যেমন—গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র—দুই উপজেলার মানুষের জন্য ছিল এক যৌথ প্ল্যাটফর্ম। এতে করে একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হয়, যা প্রশাসনিক বিভাজনের পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তবে ১৯৮৪ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই সম্পর্কের গতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। বোচাগঞ্জ দিনাজপুরের অধীনে থেকে যায়, আর পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁওয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে। এই বিভাজন উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট বণ্টন এবং অবকাঠামোগত অগ্রাধিকারে পার্থক্য সৃষ্টি করে। ফলে পূর্বের সমন্বিত অগ্রযাত্রা ধীরে ধীরে ভিন্নমুখী হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিকভাবে, এই দুই উপজেলার কিছু প্রভাবশালী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। তারা নির্বাচন, দলীয় রাজনীতি, এমনকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করেছে। এই পরিবারগুলোকে অনেকেই “অঞ্চলের মস্তিষ্ক” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান প্রায়শই বৃহত্তর জনমতের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—এই প্রভাব কি সর্বদা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়েছে?
বাস্তবতা হলো, কিছু ক্ষেত্রে এসব রাজনৈতিক পরিবারের ইতিবাচক ভূমিকা যেমন রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, সড়ক উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ—তেমনি রয়েছে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগও। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের দ্বৈত অনুভূতি তৈরি হয়েছে—একদিকে নির্ভরতা, অন্যদিকে অসন্তোষ।
বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সমন্বিত বাজার ব্যবস্থার অভাব এবং প্রশাসনিক ভিন্নতার কারণে যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না। অথচ কৃষিভিত্তিক শিল্প, সংরক্ষণাগার, এবং আন্তঃউপজেলা বাণিজ্যিক করিডোর গড়ে তোলা গেলে এই অঞ্চল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হতে পারে।
এখানেই আসে কৌশলগত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন। প্রথমত, দুই উপজেলার মধ্যে অবকাঠামোগত সংযোগ—বিশেষ করে সড়ক ও পরিবহন—উন্নত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, যৌথ হাট-বাজার আধুনিকায়ন ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তঃজেলা সমন্বয় বাড়িয়ে একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ফোরাম গঠন করা সম্ভব, যেখানে উভয় উপজেলার প্রতিনিধিরা একসঙ্গে পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
সবশেষে বলা যায়, পীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জের সম্পর্ক কোনো সাধারণ ভৌগোলিক সংযোগ নয়; এটি একটি জীবন্ত ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। প্রশাসনিক বিভাজন এই সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় নিয়ে গেলেও, এর অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বন্ধন এখনো অটুট। এই বন্ধনকে যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনর্গঠন করা যায়, তবে এটি উত্তরবঙ্গের জন্য একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠতে পারে।

পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

Sakib Ahsan
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে নতুন নতুন ফসলের আবাদে এগিয়ে আসছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জি-৯ জাতের কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ এবং বিভিন্ন জাতের আঙুর চাষ ইতোমধ্যে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্যমতে, এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে কৃষির চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে জি-৯ জাতের কলার আবাদ করা হয়েছে। এটি মূলত সাগর কলার একটি উন্নত জাত, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—গাছ থেকে কলা কাটার পরও ২০ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত পাকার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলে। ফলে সংরক্ষণ ও পরিবহনে সুবিধা হয়, যা রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।
তিনি আরও বলেন, “এই জাতের কলা দীর্ঘ সময় ভালো অবস্থায় থাকে বলে দেশের বাইরে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে কৃষকেরা এখান থেকে ভালো লাভবান হতে পারবেন।”
অন্যদিকে, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ হিসেবে পরিচিত শীতকালীন পেঁয়াজ বীজের আবাদও পীরগঞ্জে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এই বীজের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
কৃষি কর্মকর্তা জানান, “কৃষকেরা যদি ন্যায্য মূল্য পান, তাহলে আগামী মৌসুমে এই পেঁয়াজ বীজের আবাদ আরও বিস্তৃত হবে। এটি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বড় বাজার তৈরি করতে পারে।”
এছাড়া উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৮ থেকে ১০টি জাতের আঙুর চাষ শুরু হয়েছে, যা বর্তমানে প্রায় ৮০ শতক জমিতে বিস্তৃত। দেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিকভাবে ফলাফল আশাব্যঞ্জক। যদি উৎপাদন ভালো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আঙুর চাষের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।”
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, নতুন এসব ফসল চাষে শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় তারা এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে লাভজনক বাজার নিশ্চিত হলে কৃষিতে এই পরিবর্তন আরও গতি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একক ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখী চাষাবাদ কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কমায় এবং আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে। পীরগঞ্জে জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষের এই উদ্যোগ সেই পথেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পীরগঞ্জের কৃষি খাত আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই হয়ে উঠবে।

ব্রেকিং নিউজ