খুঁজুন
রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭ পৌষ, ১৪৩২

বাউলদের উপর হামলা করা ঠিক হয়নি: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বাউলদের উপর হামলা করা ঠিক হয়নি: মির্জা ফখরুল

সম্প্রতি দেশে বাউল ও ফকির শিল্পীদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে “ন্যক্কারজনক” ও “উগ্র ধর্মান্ধ চক্রের কাজ” হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, বাউলরা শুধু গান করে না, তারা বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাদের ওপর এমন হামলা পুরো গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক সহিষ্ণুতার ওপর আঘাত।

বাউল ও ফকির সম্প্রদায় বহু প্রজন্ম ধরে দেশের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। লালন, নজরুল ও অন্যান্য গীতিকারদের গান ও চিন্তা গ্রামীণ জনগণের জীবনে নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছে। মির্জা ফখরুলের মতে, এ ধরনের সহিংসতা শুধুমাত্র একজন শিল্পীর ক্ষতি নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলে। তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল সমাজের সকল স্তরকে সচেতন হতে বলেন। বাউলদের রক্ষা ও তাদের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। নাগরিক সমাজ, মিডিয়া এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে ঐকমত্যে কাজ করার মাধ্যমে এই ধরনের বর্বরতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বাউলরা বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক এবং তাদের সুরক্ষার মাধ্যমেই আমরা একটি সহনশীল ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ সমাজ নিশ্চিত করতে পারব।

উপরন্তু, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে সমালোচনার পাশাপাশি সমর্থনও পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাউল ও ফকির শিল্পীদের প্রতি সহিংসতা সামাজিক সংহতি ও সংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কড়া আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ অপরিহার্য।

সর্বশেষ, মির্জা ফখরুলের আহ্বান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বাউল ও ফকির শিল্পীদের রক্ষা এবং তাদের সাংস্কৃতিক মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু একটি শিল্প বা সংস্কৃতি বিষয় নয়, এটি দেশের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বেরও অংশ। আমাদের প্রত্যেককে এই ঐতিহ্যকে সম্মান ও সংরক্ষণ করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজির দাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজির দাম

শীত মৌসুমে সরবরাহ বাড়ার কথা থাকলেও দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলছে না। চাল, ডাল ও সবজির দাম একসঙ্গে বাড়ায় বা স্থিতিশীলভাবে উচ্চ অবস্থানে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচ আরও চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কালবেলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা শহরের বাজারগুলোতে মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিনিকেট, নাজিরশাইল ও চিকন জাতের চাল এখন আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা দৈনন্দিন খাবারের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চালের পাশাপাশি ডালের বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। মসুর, মুগ ও ছোলার মতো জনপ্রিয় ডালের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়ে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। অনেক ক্রেতা জানান, আগে যেখানে নির্দিষ্ট বাজেটে মাসের বাজার করা যেত, এখন সেখানে পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হচ্ছে।

সবজির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। শীতকালীন সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন ও কাঁচা মরিচ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। কিছু সবজির দাম সামান্য কমলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। ফলে বাজারে পণ্য থাকলেও ক্রেতাদের জন্য তা স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি দরের চাপ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দাম কমানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরবরাহ চেইনে তদারকি বাড়ানো না গেলে নিত্যপণ্যের এই মূল্যচাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সার্বিকভাবে চাল, ডাল ও সবজির একসঙ্গে বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, আর বাজারে স্বস্তির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

হৃদয় হাসান (জামালপুর প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হৃদয় (২৪) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)  সকালে মাদারগঞ্জ পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয়, পৌরসভার বালিজুড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও একই এলাকার হাসান ফকিরের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, সকালে পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটের ছাদের ওপর কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সেখানে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন হৃদয়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে নিচে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর হৃদয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে তার শরীর গরম ছিল এবং নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এ অবস্থায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে দ্বিতীয়বারও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা আরও  অভিযোগ করে বলেন , হাসপাতালের চিকিৎসকরা  অবহেলা না করে যদি  সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিতো তাহলে হৃদয়কে বাঁচানো যেত। এদিকে চিকিৎসকের অবহেলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের শান্ত করেন। এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,আমাদের চিকিৎসক সব প্রসিডিউর মেনেই তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। রোগীর স্বজনদের এটা ভুল বুঝাবুঝি। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন,ডাক্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন পরীক্ষা -নিরীক্ষা করেই রোগীকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে  আইন প্রয়োগ করা হবে।

অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

আরিফ হোসেন (নোয়াখালি প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

শীতের ভোর, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো নিঝুম দ্বীপ তখনো ঘুম ভাঙেনি পুরোপুরি। হঠাৎ নদীর বুকে ডানা ঝাপটানোর শব্দ এক ঝাঁক অতিথি পাখি উড়ে গেল আলো ফোটার আগেই। মুহূর্তেই বোঝা যায়, শীত এলেই নিঝুম দ্বীপ শুধু একটি দ্বীপ নয়, হয়ে ওঠে ডানার রাজ্য। এখানে প্রকৃতি কথা বলে, আর পাখিরা সেই কথার ভাষা।

প্রতিবছর শীত এলেই সুদূর সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও হিমালয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসে আশ্রয় নেয় নোয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিছিন্ন নিঝুম দ্বীপে । অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই দ্বীপজুড়ে চলে অতিথি পাখির নীরব উৎসব। খাল, বিল, নদীর চর আর বনভূমি ভরে ওঠে তাদের কলতানে।

নিঝুম দ্বীপের চরাঞ্চলে হাঁটলে দেখা মেলে পাতিহাঁস, নীলশির, সরালি, লেঞ্জা, বাটান, পানকৌড়ি ও গাংচিলের দল। কখনো তারা নদীর জলে খাবার খোঁজে, কখনো চরজুড়ে বিশ্রামে বসে। সূর্যের আলো গায়ে মেখে ডানা ঝাপটানোর সেই দৃশ্য যে কাউকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেয়। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এ যেন প্রকৃতির তৈরি এক জীবন্ত সিনেমা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে শীতকালে তাপমাত্রা ভয়াবহভাবে কমে যায়। বরফে ঢেকে যায় জলাশয় ও খাদ্যভূমি। তখন খাদ্যের সন্ধানে এবং উষ্ণতার খোঁজে পাখিরা পাড়ি জমায় দক্ষিণ এশিয়ার দিকে। বাংলাদেশে শীতকালে আবহাওয়া তুলনামূলক সহনীয় এবং জলাভূমিতে খাবারের অভাব না থাকায় অতিথি পাখিরা এখানে নিরাপদ আশ্রয় পায়।

নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এই পাখিদের টানে। বিস্তৃত চর, নদী, বন আর নির্জন পরিবেশ পাখিদের জন্য আদর্শ আবাসভূমি তৈরি করেছে। তাই প্রতিবছর নির্দিষ্ট মৌসুমে তারা আবার ফিরে আসে এই দ্বীপে যেন পুরোনো ঠিকানায় ফেরা।

শীতের সকালে পর্যটক ও আলোকচিত্রীরা ভিড় করেন নিঝুম দ্বীপে। ভোরের আলোয় নদীর বুকে পাখির উড়াল, চরাঞ্চলে তাদের কলতান সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে নিঝুম দ্বীপ মানেই এই শীতের পাখির উৎসব। কেউ আসে ছবি তুলতে, কেউ আসে প্রকৃতির কাছে একটু শান্তি খুঁজতে।

তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে শঙ্কা। অতিথি পাখি শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংস হলে এই উৎসব থেমে যেতে পারে। পরিবেশবাদী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি জরুরি। পাখিরা নিরাপদ থাকলেই নিঝুম দ্বীপ তার এই অনন্য সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবে।

মার্চ-এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা বাড়লে অতিথি পাখিরা আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়। তখন নিঝুম দ্বীপ কিছুটা নীরব হয়ে পড়ে। তবে রেখে যায় স্মৃতি ডানার শব্দ, কলতান আর শীতের সকালের অপার মুগ্ধতা।

শীতে নিঝুম দ্বীপে অতিথি পাখির এই আগমন শুধু প্রকৃতির ঘটনা নয়, এটি এক অনুভূতি। যারা একবার এই ডানার মেলায় হারিয়ে গেছে, তারা জানে নিঝুম দ্বীপ শীতে শুধু দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়।

ব্রেকিং নিউজ