খুঁজুন
শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৬ পৌষ, ১৪৩২

দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা বিএনপির আছে- তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা বিএনপির আছে- তারেক রহমান

তারেক রহমান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল — বিএনপি) সম্প্রতি দাবি করেছেন, দেশের বর্তমান দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার সংকট মোকাবেলায় “দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার সক্ষমতা” শুধুই বিএনপির রয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত “বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা” কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না, তাহলে দেশের উন্নয়ন—বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্য, নারী-শিশু কল্যাণসহ সব খাতই পিছিয়ে যাবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ইতিহাস বলছে, “দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র” মোকাবেলায় জনগণ ও গণতন্ত্রই শক্তির উৎস। আর সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের আস্থা ফিরে এনে শুধু বিএনপিই দুর্নীতি ও অরাজকতা রোধ করতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, যারা এখন বিএনপিকে সমালোচনা করছে, তারা অতীতে দলের মন্ত্রিসভায় ছিল — এবং তাদের মন্ত্রিত্বের সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিএনপি-র ভূমিকা ছিল স্পষ্ট।

তারেক রহমান পৌঁছেছেন এমন সময়ে, যখন দেশের অনেকেই দাবি করছেন — দীর্ঘ দিনের দুর্নীতি, শাসনহীনতা, এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদ্যোগ দিয়েই হয় না; প্রধান দলগুলোর রাজনৈতিক নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং সময়োপযোগী সংস্কারের ওপরও বলা যাচ্ছে। তার ভাষণ সেই ভাবনাকে নতুন করে উথ্থাপিত করেছে।

যাইহোক, বিএনপির এ দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, সেটা সময়ই বলবে। কারণ, শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় — সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে হলে প্রমাণ-ভিত্তিক নীতি, স্বচ্ছ প্রশাসন, এবং নিয়মিত জনস্বার্থী মনোভাব জরুরি।

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

হৃদয় হাসান (জামালপুর প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হৃদয় (২৪) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)  সকালে মাদারগঞ্জ পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয়, পৌরসভার বালিজুড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও একই এলাকার হাসান ফকিরের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, সকালে পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটের ছাদের ওপর কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সেখানে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন হৃদয়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে নিচে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর হৃদয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে তার শরীর গরম ছিল এবং নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এ অবস্থায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে দ্বিতীয়বারও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা আরও  অভিযোগ করে বলেন , হাসপাতালের চিকিৎসকরা  অবহেলা না করে যদি  সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিতো তাহলে হৃদয়কে বাঁচানো যেত। এদিকে চিকিৎসকের অবহেলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের শান্ত করেন। এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,আমাদের চিকিৎসক সব প্রসিডিউর মেনেই তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। রোগীর স্বজনদের এটা ভুল বুঝাবুঝি। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন,ডাক্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন পরীক্ষা -নিরীক্ষা করেই রোগীকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে  আইন প্রয়োগ করা হবে।

অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

আরিফ হোসেন (নোয়াখালি প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

শীতের ভোর, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো নিঝুম দ্বীপ তখনো ঘুম ভাঙেনি পুরোপুরি। হঠাৎ নদীর বুকে ডানা ঝাপটানোর শব্দ এক ঝাঁক অতিথি পাখি উড়ে গেল আলো ফোটার আগেই। মুহূর্তেই বোঝা যায়, শীত এলেই নিঝুম দ্বীপ শুধু একটি দ্বীপ নয়, হয়ে ওঠে ডানার রাজ্য। এখানে প্রকৃতি কথা বলে, আর পাখিরা সেই কথার ভাষা।

প্রতিবছর শীত এলেই সুদূর সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও হিমালয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসে আশ্রয় নেয় নোয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিছিন্ন নিঝুম দ্বীপে । অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই দ্বীপজুড়ে চলে অতিথি পাখির নীরব উৎসব। খাল, বিল, নদীর চর আর বনভূমি ভরে ওঠে তাদের কলতানে।

নিঝুম দ্বীপের চরাঞ্চলে হাঁটলে দেখা মেলে পাতিহাঁস, নীলশির, সরালি, লেঞ্জা, বাটান, পানকৌড়ি ও গাংচিলের দল। কখনো তারা নদীর জলে খাবার খোঁজে, কখনো চরজুড়ে বিশ্রামে বসে। সূর্যের আলো গায়ে মেখে ডানা ঝাপটানোর সেই দৃশ্য যে কাউকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেয়। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এ যেন প্রকৃতির তৈরি এক জীবন্ত সিনেমা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে শীতকালে তাপমাত্রা ভয়াবহভাবে কমে যায়। বরফে ঢেকে যায় জলাশয় ও খাদ্যভূমি। তখন খাদ্যের সন্ধানে এবং উষ্ণতার খোঁজে পাখিরা পাড়ি জমায় দক্ষিণ এশিয়ার দিকে। বাংলাদেশে শীতকালে আবহাওয়া তুলনামূলক সহনীয় এবং জলাভূমিতে খাবারের অভাব না থাকায় অতিথি পাখিরা এখানে নিরাপদ আশ্রয় পায়।

নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এই পাখিদের টানে। বিস্তৃত চর, নদী, বন আর নির্জন পরিবেশ পাখিদের জন্য আদর্শ আবাসভূমি তৈরি করেছে। তাই প্রতিবছর নির্দিষ্ট মৌসুমে তারা আবার ফিরে আসে এই দ্বীপে যেন পুরোনো ঠিকানায় ফেরা।

শীতের সকালে পর্যটক ও আলোকচিত্রীরা ভিড় করেন নিঝুম দ্বীপে। ভোরের আলোয় নদীর বুকে পাখির উড়াল, চরাঞ্চলে তাদের কলতান সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে নিঝুম দ্বীপ মানেই এই শীতের পাখির উৎসব। কেউ আসে ছবি তুলতে, কেউ আসে প্রকৃতির কাছে একটু শান্তি খুঁজতে।

তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে শঙ্কা। অতিথি পাখি শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংস হলে এই উৎসব থেমে যেতে পারে। পরিবেশবাদী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি জরুরি। পাখিরা নিরাপদ থাকলেই নিঝুম দ্বীপ তার এই অনন্য সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবে।

মার্চ-এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা বাড়লে অতিথি পাখিরা আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়। তখন নিঝুম দ্বীপ কিছুটা নীরব হয়ে পড়ে। তবে রেখে যায় স্মৃতি ডানার শব্দ, কলতান আর শীতের সকালের অপার মুগ্ধতা।

শীতে নিঝুম দ্বীপে অতিথি পাখির এই আগমন শুধু প্রকৃতির ঘটনা নয়, এটি এক অনুভূতি। যারা একবার এই ডানার মেলায় হারিয়ে গেছে, তারা জানে নিঝুম দ্বীপ শীতে শুধু দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়।

ভারতীয়দের জন্য ‘পর্যটক ভিসা’ সীমিত করল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ভারতীয়দের জন্য ‘পর্যটক ভিসা’ সীমিত করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার ভারতের নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যার ফলে এখন থেকে ভারতীয় পর্যটকরা বাংলাদেশে পর্যটক ভিসা পেতে আগের মতো সুবিধা পাবেন না। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে এ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে এবং অল্পদিনের মধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইতে অবস্থিত বাংলাদেশের উপ‑হাইকমিশনগুলোতে বর্তমানে ভারতীয় নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলার সহকারী হাইকমিশনেও পর্যটক ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের আওতায় ট্যুরিস্ট বা পর্যটক ভিসা এবং অন্যান্য বেশিরভাগ সাধারণ ভিসা সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক এবং কর্মসংক্রান্ত ভিসা ছাড়া অন্যান্য ভিসা ধরনগুলো বন্ধ রয়েছে। এই ব্যবস্থাটি মূলত নিরাপত্তা ও কনস্যুলার কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এমন সিদ্ধান্ত কুটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনার মাঝে এসেছে। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক দ্বন্দ্ব এবং ভিসা‑সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়ার কারণে এই সীমাবদ্ধতা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও প্রাদেশিক সংবাদ মাধ্যমে জানানো হচ্ছে।

এই পরিবর্তনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভ্রমণের পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেতে পারে, বিশেষ করে যারা বিনোদন, ভ্রমণ বা স্বল্পকালীন পর্যটনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসতে চাইতেন। ব্যবসায়িক এবং কর্মসংক্রান্ত কাজে ভিসা এখনও সীমিত পরিসরে পাওয়া যাচ্ছে, তবে পর্যটক হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশে এখন কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রমণ ও মানুষের সংযোগে প্রভাব পরতে পারে, বিশেষ করে যারা স্বল্প সময়ে ভ্রমণে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করেছে তারা এ থেকে সরাসরি প্রভাবিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবে।

ব্রেকিং নিউজ