মৃত শিশু দেখা করতে গেছে তার জীবিত পিতার সাথে


রতন রায় : জেলা প্রতিনিধি। তারিখ: ২৬-৩-২০২৬ ইং
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে পুত্রের শাবলের আঘাতে পিতার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের নিলুরখামার কাটটারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ওই গ্রামের আসাদুজ্জামান মানিক (২৯) নামের এক যুবক শাবল দিয়ে আঘাত করলে তার বাবা আব্দুল খালেক (৫৫) এর মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘাতক ছেলেকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ঘাতক মানিকের বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তার পারিবারিক কলহ চলছিল। এই বিবাদের কারণে মানিক গত কয়েক মাস ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন।
রবিবার (আজ) দুপুর ১টার দিকে নিজ বাড়িতে বাবা আব্দুল খালেকের সঙ্গে মানিকের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মানিক উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে একটি লোহার শাবল এনে তার বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল খালেকের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান মানিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান বলেন,পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে । মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত মানিক মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা তদন্ত করা হবে।
আব্দুল গফুর খান, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জ জেলা শহরে বিউটি পার্লারের আড়ালে সেখানে এক তরুণীকে জোরপূর্বক যৌন কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে গতকাল শনিবার রাতে ওই তরুণীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন ওই বিউটি পার্লারের মালিক রত্না ইয়াছমিন (৪০), তাঁর ছেলে মো. তুষার রহমান (২৪) ও তাজনীন আক্তার ওরফে চাঁদনী (২৩) নামের এক তরুণী। এ ছাড়া মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। আহত তরুণীকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বিউটি পার্লারের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে যৌন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন রত্না ইয়াছমিনসহ কয়েকজন। ভুক্তভোগী তরুণী পার্লারটিতে চাকরি করতেন। কিন্তু তাঁকে যৌন কাজে বাধ্য করতেন পার্লারের মালিক ও তাঁর সহযোগীরা। গত বুধবার ভুক্তভোগী তরুণীর বাসায় তাঁর ছোট বোন বেড়াতে এলে বিষয়টি জানতে পেরে আসামিরা তাঁকে দিয়েও যৌন কাজ করানোর প্রস্তাব দেন। এতে ভুক্তভোগী তরুণী রাজি হচ্ছিলেন না। পরে গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে তাঁর বাসায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন আসামিরা।
এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে মারধর করে জোরপূর্বক পারলারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং হাত বেঁধে শিকলে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং মুখে কালি মেখে দেওয়া হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকরাম হোসেন বলেন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। ইতিমধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। #মানিকগঞ্জ #ধর্ষণ #নির্যাতন
গাইবান্ধায় আগাম ঈদ উৎসব,সৌদির সাথে মিল রেখে আনন্দ উদযাপন
শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা।
আজ(২০ মার্চ) শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে জেলার সহিহ হাদিস গোষ্ঠীর মুসল্লিরা ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ার নতুন জামে মসজিদের পাশের একটি ভবনের ছাদে এ ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করেন আমিনুল ইসলাম।
ঈদের জামাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লিরা এতে অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন। বাইরে ভারী বৃষ্টির কারণে মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঈদের কয়েকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নামাজে আসা মুসল্লিরা বলেন, বিগত ১৮ বছর ধরে অথ্যাৎ ২০০৯ সাল থেকে সৌদি আরবের সাথে আমরা ঈদের নামাজ আদায় ও রোজা পালন করছি। সৌদি আরবের সাথে নামাজ আদায় ও রোজা পালন করতে পেরে আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করেন তারা।
এদিকে, একদিন আগে ঈদ পালনে অপ্রীতিকর যেকোনো ঘটনা রুখে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পলাশবাড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আপনার মতামত লিখুন