খুঁজুন
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯ মাঘ, ১৪৩২

জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না,,, তারেক রহমান 

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না,,, তারেক রহমান 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারে নি। বিএনপি আজ এই পর্য়ায়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। কাজেই আমার পরিকল্পনা বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা।

নির্বাচনী প্রচারণা এবং রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে
বৃহস্পতিবার (২৯জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নওগাঁ বাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখানে শীতে এসে কম্বল দিয়েছি। এই নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার গনতন্ত্র  পুনরুদ্ধারে অনেক অবদান রেখেছে।

তারেক রহমান বলেন, এখানে এসে শুনছি শুধু দাবি আর দাবি, এতো দাবি থাকলে গত ১৭ বছরে কি হলো? এই ১৭ বছরে উন্নয়ন হয়নি? আমরা যেহেতু এই দেশেই থাকবো, কাজেই আমাদেরই এই দেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্লেনে চড়ে আমাদের তো আর হুট করে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

তবে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ৮ জন প্রার্থীকে পরিচয় করে দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এরা নির্বাচিত হয়েই এলাকায় কাজ করবে। কাজেই আপনাদের এলাকার দাবি ও সমস্যা যারা দেখবেন তাদেরকে নির্বাচিত করবেন।

তারেক রহমান বলেন, এই জেলা ধানের ভান্ডার, এখানে বছরে তিনটি ধান উৎপাদন হয় যেটা জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হয়েছিল বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পর।

আমাদের প্রধান পেশা কৃষি। সেই জন্য কৃষকদের ভালো রাখতে হবে এবং সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মরহুমা খালেদা জিয়া ৫হাজার কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। এটা আমি রাজশাহীতে বলেছি, এখানেও বলছি। শুধু ঋণ মওকুফ করবো না, আমরা সকলকে কৃষক কার্ড তুলে দিব। এই কৃষি কার্ড দিয়ে একটা ফসলের সকল কিছু তুলে নিতে পারবে কৃষক, যাতে ওই কৃষকের অর্থনৈতিক ভীত শক্ত হয়। এবং প্রাকৃতিক ক্ষতি মোকাবেলা করতে পারে।

প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমানে এই জেলা আমের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু হিমাগার না থাকার অনেক ক্ষেত্রে আম পঁচে যায়। এই জন্য রেললাইন সংযোগের দিকে নজর দিব। যাতে স্বল্প মূল্যে ও স্বল্প সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আমা পাঠাতে পারে কৃষক।

তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে মেয়েদের পড়াশোনা পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিব। আর ছেলেদের খেলার জন্য আলাদা ভাবে চিন্তা করছি। শুধু পড়াশোনা করে ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার হতে হবে কেন? খেলোয়াড় হয়ে সুনাম অর্জন করা যায়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক আয় করা যায়।

গ্রামের মা ও বাচ্চাদের জন্য হেলথ কেয়ার দিব। যেন ঘরে বসেই তার ছোট ছোট অসুখ ঠিক করতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ছেলেদের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি অঞ্চল গড়ে তুলবো। আর এই কাজে যারা এগিয়ে আসবে, কলকারখানা গড়ে তুলবে তাদেরকে স্বল্প মূল্যে ঋণের ব্যবস্থা করবো। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে। যারা আইটিতে দক্ষ তাদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করবো। সর্বোপরি সকল বেকার ও শিক্ষিতদের জন্য বিভিন্ন ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মসজিদ ও মাদরাসায় যারা খতিব, মোয়াজ্জেম আছেন তাদের জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মানুষকেও দেখবো।

উপস্থিত জনগণকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের দাবি আমি পূরণ করবো, কিন্তু আপনারা কি করবেন, আপনারা ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করবেন। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হৈ হুল্লোড় করে হাত তালি দিলে তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার সামনে তাফালিং করে লাভ নেই। ১২ তারিখ ভোটের দিন দেখা যাবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখনও ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। এক পক্ষ চলে গেছে, আরেক পক্ষ আছে। এই এক পক্ষ পালিয়ে যাওয়াদের সাথে ছিল। তারা বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তাই আপনারা সতর্ক থাকবেন।

তাহাজ্জুদ পড়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বসে থাকবেন। এরপর ভোট শুরু হলে ভোট দিবেন। তবে খেয়াল রাখবেন লাইন নড়ে না কেন এই বিষয়ে, থাকবেন সতর্ক।

১৭ বছর পর দেশে এসে শুনছি গত ১৬ বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। ঢাকায় কিছু মেঘা প্রকল্প হয়েছে আর মেঘা প্রকল্প মানেই মেঘা দুর্নিতী। তবে আমরা শহরের পাশাপাশি গ্রামের জন্য উন্নয়ন করতে চাই। কারণ গ্রামের উন্নয়ন হলেই দেশ উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, সকল শহীদসহ জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের ত্যাগের একটা মূল্য দিতে হবে। কারণ এই জুলাই যোদ্ধাদের আন্দোলনের কারণে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এসেছে। ফ্যাসিস্ট পালিয়ে গেছে। এখন পরিবর্তন করতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

জনসমুদ্রের নির্বাচনী এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম এবং জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও নওগাঁ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজমুল হক সনি, রাজশাহী বিভাগের নেতা ওবায়দুল হক চন্দন বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলার বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কৃষি প্রধান জেলা হিসেবে নওগাঁকে আরও এগিয়ে নিতে বিএনপির প্রার্থীরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণাগার, সান্তাহার থেকে নওগাঁ হয়ে পার্শ্ববর্তী চাপাইনবয়াবগঞ্জ জেলার সাথে রেল যোগাযোগ ও স্ব স্ব উপজেলা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তুলে ধরেন অবহেলিত বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের কথা। সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দাবি তুলে ধরা যানজটের শহর নওগাঁয় চার লেন সড়কের বাস্তবায়ন এবং এ জেলায় গ্যাস সংযোগের দাবি জানান। সবশেষে উত্তরের এই জেলা ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে সকল প্রার্থী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সবগুলো আসন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

নওগাঁ ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি ইলিয়াস তুহিন বলেন, যই দল জীবন্ত মানুষকে মেরে ফেলে, যে দল একটা ভোটের জন মানুষকে জান্নাতের টিকেট দিতে চায় সেই দল কখনও ইসলামের দল হতে পারে না। অথচ ৭১ এর পর যখনই এই দল হোচট খেয়েছে তখনই বিএনপির হাত ধরে কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে হয়েছে। অথচ তারা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ওসমান হাদি হত্যায় গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেলের দায় স্বীকার

প্রতিবেদক রাসেল মাহমুদ রংপুর
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
ওসমান হাদি হত্যায় গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেলের দায় স্বীকার

ওসমান হাদি হত্যায় গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেলের দায় স্বীকার

প্রতিবেদক
রাসেল মাহমুদ রংপুর

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বন্ধু রুবেল আহমেদ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আদালত সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রিমান্ড শেষে আসামি রুবেলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি রুবেল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

পরদিন ২২ জানুয়ারি প্রথম দফায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। পরে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দফায় তাকে আরও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

 

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজের পরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরবর্তীতে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন, প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল , মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার।

জয়পুরহাটে সরিষাক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

নিউজ প্রকাশ, মোঃ শামিম হোসেন
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৫০ পূর্বাহ্ণ
জয়পুরহাটে সরিষাক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

জয়পুরহাটে সরিষাক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

জয়পুরহাটে একটি সরিষাক্ষেত থেকে তাইফ হাসান (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার দুপুরে জয়পুরহাট পৌর শহরের পূর্ব দেবীপুর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান।

নিহত তাইফ হাসান নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের মৃত তুহিন হোসেনের ছেলে।

সে জগদুল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
ওসি আনিছুর রহমান জানান, তাইফ হাসান গতকাল শনিবার তার মায়ের সঙ্গে বাসযোগে ঢাকা থেকে জয়পুরহাট শহরে আসে। পরে পানি পান করার কথা বলে সে নিখোঁজ হয়। রবিবার দুপুরে পূর্ব দেবীপুর এলাকার একটি সরিষাক্ষেতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাইফ হাসানকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁয় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
নওগাঁয় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

নওগাঁয় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গ্রামবাসীর মানববন্ধন

আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর আত্রাইয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের উত্তরবিল (দরগাপাড়া) এলাকায় গ্রামবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের সাথে গোপন সম্পর্ক থাকায় কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া মামলা রুজু করা হয়েছে এবং নিরপরাধ ব্যাক্তিকে ফাসানো হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারী উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামে দুলালীর সাথে একই গ্রামের মিঠুর সাথে সীমানার প্রাচীর নিয়ে কাথা কাটাকাটি হয়। এরপর দুলালির ছেলে দুলালিকে ঘটনাস্থলে থেকে চলে যেতে বলে। দুলালি না গেলে তার ছেলের সাথে তার কথাকাটাকাটি হয় এবং ছেলে তাকে আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পর দুলালি থানায় গিয়ে মিঠু সহ তিন জনের নামে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর দুলালি এলাকার সবাইকে ভয় দেখিয়ে নিষেধ করে, কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে তার নামেও মামলা দেওয়া হবে। মামলার পর পুলিশ কোন তদন্ত ছাড়াই মিঠুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর মামলার ভয়ে এলাকাবাসী গ্রামে থাকতে ভয় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে ইউনিয়নের ৭ নাম্বার ওয়ার্ডের জন প্রতিনিধি বুলু বলেন, এলাকাবাসী অনেক বার তাদের সঙ্গে বসেছে কিন্তু দুলালী কারো কোন কথা না শুনে সবাইকে ভয়ভীতি দেখায়। মিঠু নামের যে ছেলেকে ফাসানো হয়েছে সে অনেক ভালো ছেলে, কারো সাথে অন্যায় কাজ করেনি। কিন্তু তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফাসানো হয়েছে। এস আই এর সাথে দুলালীর কি সম্পর্ক আছে যে, সে মাঝে মধ্যে এখানে এসে সময় দেয়। তার জন্যই দুলালী এত সাহস পায়।
মাজহারুল বলেন, দুলালী প্রতিনিয়ত এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখায়। তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে চাইলে মামলার ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

লতা বলেন, দুলালীর পুলিশ ও ম্যাজিস্টেটের সাথে কি সম্পর্ক আছে আমরা বুঝতে পারছি না। কেউ কোন কিছু বললেই তাদের ভয় দেখিয়ে সবাইকে চুপ করাতে চায়। তার জন্য আমরা এলাকায় সস্তিতে থাকতে পারছি না।

আত্রাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শাহাজাদুল জানান, আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ন অভিযোগ মিথ্যা। তদন্তের জন্য আমি সেখানে গিয়েছি অন্য কোন উদ্দেশ্যে যাইনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে দুলালীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল করিম ঘটনার বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি।

ব্রেকিং নিউজ