বঞ্চনা পেরিয়ে প্রত্যাবর্তনের নতুন দিগন্ত: রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেনকে ঐতিহাসিক সংবর্ধনা
বঞ্চনা পেরিয়ে প্রত্যাবর্তনের নতুন দিগন্ত: রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেনকে ঐতিহাসিক সংবর্ধনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বিনাবিচারে দীর্ঘ ১২ বছর ৩ মাস ৫ দিনের অন্ধকার কারাজীবন শেষে রাজকীয় সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন ডেসটিনি গ্রুপের দুই কর্ণধার ডঃ মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসেন। গত শনিবার(৩১জানুয়ারী) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) অত্যন্ত আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ‘ঐতিহাসিক কারামুক্তি সংবর্ধনা ও আগামীর পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সহস্রাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সংবর্ধনাই ছিল না, বরং দীর্ঘ বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিশালী অঙ্গীকারে পরিণত হয়।
৬টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেসটিনির ডায়মন্ড এক্সিকিউটিভ ও গো- ডায়মন্ডের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম। কাজল সাহার প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন (ডিডিআইএর) সভাপতি আবুল হাসান, ডিএসএমএল গ্রীনের শরিফুল ইসলাম গাজী, ডিএসএমএল ব্লু’র মোশাররফ হোসেন, ডিডাফ-এর মাসুদ পারভেজ, বিল্ড ডেসটিনি ফোরামের মোঃ রাশেদুল ইসলাম এবং সেঞ্চুরির ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ডেসটিনির ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো দ্রুত সচল করে এবং জব্দকৃত সম্পত্তি অবমুক্ত করে দেশের ৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশককে পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন। এই বিশাল জনবলকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকারত্ব নিরসনে ডেসটিনি গ্রুপ নজিরবিহীন ভূমিকা রাখতে সক্ষম।” তারা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ডেসটিনির জনশক্তিকে ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবর্ধনার জবাবে ডঃ মোহাম্মদ রফিকুল আমীন আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই দীর্ঘ কারাবাস ও মানসিক যন্ত্রণা আমাদের দমাতে পারেনি। আমরা এদেশের মাটি ও মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাসী। ইনশাআল্লাহ, আমরা সকল বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশসহ টাকা ফেরত দেব। আগামীতে নির্বাচিত সরকারের সাথে সু-সমন্বয় ও আন্তরিকতার মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাব।” অন্যদিকে, আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসেন তাঁর বক্তব্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আগামীর দিনগুলোতে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাঁরা আরও সুসংগঠিতভাবে মাঠে নামতে বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয় যখন গত এক যুগে জেল-জুলুম ও নিগ্রহের শিকার পিএসডি আক্কাসসহ বেশ কয়েকজন কর্মী তাঁদের ওপর নেমে আসা অবর্ণনীয় নির্যাতনের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। উপস্থিত জনতা মনে করেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান প্রমাণ করেছে যে সময় যত দীর্ঘই হোক, অন্যায় চিরস্থায়ী নয়; সত্যের জয় অনিবার্য। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর দুই নেতার এই প্রত্যাবর্তন ডেসটিনি পরিবারের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এবং নতুন করে পথচলার সাহসী অঙ্গীকার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন