খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭ মাঘ, ১৪৩২

দিপু ভূঁইয়ার মিছিলে জনস্রোত: ‘মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রূপগঞ্জ’ গড়ার অঙ্গীকার

​মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
দিপু ভূঁইয়ার মিছিলে জনস্রোত: ‘মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রূপগঞ্জ’ গড়ার অঙ্গীকার


​ দিপু ভূঁইয়ার মিছিলে জনস্রোত: ‘মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রূপগঞ্জ’ গড়ার অঙ্গীকার


​মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাজনৈতিক শক্তির এক অভূতপূর্ব প্রদর্শন করেছে বিএনপি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে নামে মানুষের ঢল। রূপগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
​বিশাল এই মিছিলের পূর্বে আয়োজিত নির্বাচনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও স্বপ্নের রূপগঞ্জ নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রূপগঞ্জ হবে সম্পূর্ণ মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা। কোনো ভূমিদস্যু সাধারণ মানুষের জমি দখল করতে পারবে না।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি—অবৈধ গ্যাস লাইনগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধতা দেওয়া হবে। এছাড়া রাস্তাঘাটের আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার এমন উন্নয়ন করা হবে যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে পারে। সমাজের অবহেলিত ও অসহায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
​এই বিশাল রাজনৈতিক শো-ডাউনে দিপু ভূঁইয়ার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন বাচ্চু। এছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতৃবৃন্দ ও সৌদি আরব পূর্বাঞ্চল বিএনপির সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন স্বপন মিছিলে অংশ নেন।
​মিছিলটি ভুলতা গাউছিয়া মার্কেট থেকে শুরু হয়ে মহাসড়কের বলাইখাঁ, গোলাকান্দাইল, সাওঘাট ও মাহনা এলাকা প্রদক্ষিণ করে। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলে নেতাকর্মীদের গগনবিদারী স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে এই গণজোয়ারকে সমর্থন জানায়। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মিছিলটি সুবর্ণগ্রাম পার্কের প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের আগে দিপু ভূঁইয়ার এই বিশাল উপস্থিতি রূপগঞ্জের ভোটের মাঠে এক নতুন এবং শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

গত ৫৬ বছরের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিরোধের সরকার হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে

মো নাজিম উদ্দীন কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
গত ৫৬ বছরের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিরোধের সরকার হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে

গত ৫৬ বছরের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিরোধের সরকার হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে

মো নাজিম উদ্দীন কুমিল্লা প্রতিনিধি

জামায়াতের নায়েবে আমির ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে নতুন সরকার গঠন করবে। যে সরকার হবে গত ৫৬ বছরের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিরোধের সরকার। আপনারা কি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চান? না চাইলে ১১ দলীয় জোটে ভোট দিন। এবার চলছে যুক্ত আর মুক্ত পক্ষের নির্বাচন। আমরা মুক্ত আর অন্য একটি দল যুক্ত। অর্থ্যাৎ তারা দূর্নীতি আর চাঁদাবাজিতে যুক্ত। আর আমরা দুর্নীতি-চাঁদাবাজি মুক্ত।
‎তিনি সন্ত্রাসীদের হুশিয়ারি করে বলেন, শুনেছি কেউ কেউ কেন্দ্র দখলের হুমকি দিচ্ছে। আপনারা হুমকিতে ভয় পান? অবশ্যই না। এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতি ৫ মিনিট পর পর টহল দিবে। সুতরাং কেউ হুমকিতে ভয় না পেয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসুন। সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম চৌদ্দগ্রামে চলবে না।
‎তিনি হিন্দুদের উদ্দেশ্যে বলেন, জামায়াত ৫ আগস্টের পর আপনাদের নিরাপত্তা দিয়েছে। আমি আশা করি, অতীতের ন্যায় এবারও আপনারা আমাকে ভোট দিবেন।
‎সোমবার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
‎কালিকাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মমিনুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে ও জামায়াত নেতা শাকিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক আমীর আবদুস সাত্তার, বর্তমান আমীর এডভোকেট মু. শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, এলডিপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার কাজী ফেরদৌস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা আমীর মাওলানা শাহজালাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মজুমদার, আবুল খায়ের, আলহাজ্ব রুহুল আমিন, মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, এমদাদুল হক শাহী, ওয়াজি উল্যাহ ভুঁইয়া খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর হারুনুর রশিদ, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, জিএস খলিলুর রহমান, মাষ্টার কফিল উদ্দিন, আবদুর রহিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক ফরিদুজ্জামান রুবেল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ শিবিরের সাবেক সভাপতি মাসুদ আলম ফয়সাল, ৬নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি জহির উদ্দিন তোহা, ৭নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হোসাইন মোরশেদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান করে।

জলমা ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
জলমা ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ

জলমা ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত খুলনা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আমির এজাজ খানের পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিব শেখের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সাগরের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় নেতাকর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি এলাকার বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যসহ বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। নেতাকর্মীরা জানান, জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমেই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক জুম্মান মোড়ল, যুবরাজ আহামেদ, ফাহিম ইসলাম ও সোহেল খান। এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শুভ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে কর্মসূচিতে অংশ নেন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সত্তার জমাদ্দার। এ ছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
নেতাকর্মীরা বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং আগামীতেও এ ধরনের গণসংযোগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উত্তরবঙ্গের মাঠে নতুন কণ্ঠস্বর,প্রভাত সমীর ও পীরগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
উত্তরবঙ্গের মাঠে নতুন কণ্ঠস্বর,প্রভাত সমীর ও পীরগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা

উত্তরবঙ্গের মাঠে নতুন কণ্ঠস্বর,প্রভাত সমীর ও পীরগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও–৩ আসনের রাজনীতি মানেই শুধু ভোটের অঙ্ক নয়—এটা ইতিহাস, বঞ্চনা আর বারবার ভাঙা স্বপ্নের গল্প। পীরগঞ্জ উপজেলার ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ইউনিয়নের মানুষের কাছে নির্বাচন মানে ঢাকামুখী নেতাদের প্রতিশ্রুতি শোনা, তারপর আবার নীরব হয়ে যাওয়া। এই প্রেক্ষাপটে সিপিবির প্রার্থী কমরেড মুনসুর-এর সন্তান প্রভাত সমীর শাহাজান আলম নামটি কেবল একটি প্রার্থীর পরিচয় নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক স্মৃতির পুনর্জাগরণ।
পীরগঞ্জের ভূগোল কঠিন—খরা, নদীর চর, বন্যা আর অনিশ্চিত কৃষি এই অঞ্চলের নিত্যসঙ্গী। ৭ নম্বর ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন,
“আমরা চাষ করি, কিন্তু লাভ করে ফড়িয়া। ভোট দেই, কিন্তু লাভ করে শহরের নেতা।”
এই বঞ্চনার মধ্যেই বড় হয়েছেন প্রভাত সমীর শহরের রাজনীতির আরামে নয়, বরং মাঠের রাজনীতির কঠোরতায়।
কমরেড মুনসুর ছিলেন সেই প্রজন্মের রাজনীতিক, যিনি ক্ষমতার নয় সংগ্রামের ভাষায় কথা বলতেন। তার সন্তান হিসেবে প্রভাত সমীরের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উত্তরাধিকার নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা। কিন্তু পীরগঞ্জের মানুষ উত্তরাধিকার নয়, চর্চা দেখে। ৮ নম্বর ইউনিয়নের এক স্কুলশিক্ষকের ভাষায়,
“ছেলেটা বক্তৃতা কম দেয়, প্রশ্ন বেশি শোনে,এটাই পার্থক্য।”
পীরগঞ্জের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় পরিচয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয় উপস্থিতি। বড় দলগুলো এখানে ভোটের সময় আসে, আর যায় ক্ষমতার পথে। কিন্তু প্রভাত সমীর শাহাজান আলমের প্রচারণা দেখা যাচ্ছে হাটে, মাঠে, চায়ের দোকানে। ৯ নম্বর ইউনিয়নের এক নারী ভোটার বলেন,
“ও কথা বলে আমাদের মতো করে। বড় বড় শব্দ ব্যবহার করে না।”
এটাই তার শক্তি রাজনীতিকে সহজ ভাষায় নামিয়ে আনা।
যেখানে অন্য প্রার্থীরা উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের কথা বলেন, সেখানে প্রভাত সমীর কথা বলেন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার না থাকার কষ্ট, স্কুলে শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য নিয়ে।
১০ নম্বর ইউনিয়নের এক যুবকের ভাষ্য,
“আমরা চাকরি চাই না, আমরা সুযোগ চাই। সে কথাটা উনি বুঝেন।”
এই ‘বোঝা’টাই রাজনীতির মূলধন।
রাজনৈতিকভাবে পীরগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিধাবিভক্ত,একদিকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি, অন্যদিকে প্রতিবাদের নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস। সিপিবি এখানে কখনো সংখ্যার রাজনীতি করেনি, করেছে নৈতিক রাজনীতি। প্রভাত সমীর সেই ধারার আধুনিক রূপ,যিনি আদর্শকে ভারী বইয়ে নয়, বাস্তব দাবিতে রূপ দিচ্ছেন।
১১ নম্বর ইউনিয়নের এক প্রবীণ বলেন,
“কমরেড মুনসুর আমাদের সাথে মাঠে নামতেন। ছেলে যদি তার অর্ধেকও হয়, তাতেই চলবে।”
এই বক্তব্যে আছে আবেগ, আছে মানদণ্ড।
প্রভাত সমীর শাহজাহান আলমের প্রার্থিতা তাই শুধু সিপিবির নয়,এটা পীরগঞ্জের মানুষের রাজনৈতিক বিকল্প খোঁজার আকুতি। তিনি জানেন, এই আসনে জেতা কঠিন। কিন্তু তিনি এটাও জানেন,রাজনীতি কেবল জেতা নয়, বয়ান বদলানো।
ঠাকুরগাঁও–৩-এর এই নির্বাচনে প্রভাত সমীরের উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়,রাজনীতি এখনো পুরোপুরি পণ্য হয়ে যায়নি। কিছু মানুষ এখনো বিশ্বাস করে, রাজনীতি হতে পারে মানুষের জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর হাতিয়ার।
পীরগঞ্জের মাঠে তাই এবার শুধু ভোটের লড়াই নয়,এটা স্মৃতি বনাম বিস্মৃতি, আদর্শ বনাম সুবিধাবাদের সংঘর্ষ। আর এই সংঘর্ষে প্রভাত সমীর একটি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছেন,রাজনীতি কি আবার মানুষের ঘরে ফিরতে পারে না?

ব্রেকিং নিউজ