খুঁজুন
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র, ১৪৩২

‘৩৬ জুলাই’-পরবর্তী বাস্তবতা; পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার আড়ালে প্রভাব ও প্রটেকশন মানির অদৃশ্য জাল!!

Sakib Ahsan
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
‘৩৬ জুলাই’-পরবর্তী বাস্তবতা; পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার আড়ালে প্রভাব ও প্রটেকশন মানির অদৃশ্য জাল!!

‘৩৬ জুলাই’-পরবর্তী বাস্তবতা; পীরগঞ্জে সাংবাদিকতার আড়ালে প্রভাব ও প্রটেকশন মানির অদৃশ্য জাল!!

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একটি নীরব কিন্তু উদ্বেগজনক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘৩৬ জুলাই’-এর পর রাতারাতি কিছু সাংবাদিকের জীবনযাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয়ের জন্ম দিচ্ছে। এই পরিবর্তনকে অনেকে আখ্যা দিচ্ছেন “আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া” হিসেবে। বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে একটি জটিল ও সংবেদনশীল বাস্তবতা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উঠে আসছে তথাকথিত ‘প্রটেকশন মানি’।
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা যার মূল ভিত্তি সত্য অনুসন্ধান, জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন এই পেশার কিছু ব্যক্তি নিজেদের প্রভাবকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে শুরু করেন, তখন পুরো পেশাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। পীরগঞ্জে এমন অভিযোগ উঠছে যে, কিছু ব্যক্তি সংবাদ সংগ্রহের আড়ালে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘সুরক্ষা’ দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছেন। এই অর্থের বিনিময়ে তারা হয়তো কোনো অনিয়ম প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অথবা বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করছেন।
এই প্রবণতা কেন তৈরি হচ্ছে—তা বিশ্লেষণ করা জরুরি। প্রথমত, স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার পেশাগত কাঠামো দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো প্রশিক্ষণ, নীতিমালা বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে জবাবদিহিতা কমে যাচ্ছে এবং অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা একটি বড় কারণ। অনেকেই নিয়মিত বেতন বা স্থায়ী আয় না পাওয়ায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন, যা কখনো কখনো অনৈতিক চর্চার দিকে ঠেলে দেয়।
তৃতীয়ত, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি। যদি স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কার্যকরভাবে তদারকি করত, তাহলে এই ধরনের অভিযোগ এতটা বিস্তৃত আকার ধারণ করত না। বরং একটি সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হতো, যেখানে প্রকৃত সাংবাদিকরা সম্মান ও নিরাপত্তা পেতেন।
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কারণ, তারা নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যখন সংবাদ বিকৃত হয় বা ইচ্ছাকৃতভাবে চেপে রাখা হয়, তখন সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।
তবে পুরো চিত্রটিকে একপাক্ষিকভাবে দেখা উচিত নয়। পীরগঞ্জে এখনো অনেক সৎ ও পেশাদার সাংবাদিক রয়েছেন, যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও নীতির প্রশ্নে আপস করেন না। তাদের কাজই প্রমাণ করে—সাংবাদিকতা এখনো সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।
সমাধানের পথ কী? প্রথমত, সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিনিধিদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। তৃতীয়ত, প্রশাসনকে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজকেও সোচ্চার হতে হবে যাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
পীরগঞ্জের এই পরিবর্তন কেবল একটি উপজেলার সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তর গণমাধ্যম ব্যবস্থার একটি প্রতিফলন। তাই এখনই সময় আত্মসমালোচনার—কারণ সাংবাদিকতা যদি আস্থার সংকটে পড়ে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো সমাজই।

রূপগঞ্জে জনকণ্ঠের সংবাদদাতার ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
রূপগঞ্জে জনকণ্ঠের সংবাদদাতার ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

 

রূপগঞ্জে জনকণ্ঠের সংবাদদাতার ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

রূপগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এক সাংবাদিকের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাইতুন নূর জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় শেষে মসজিদের গেটে দাঁড়ালে তার উপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিক মো. নূর আলম বলেন, তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের রূপগঞ্জের নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত। তার দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। মসজিদের সামনে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় তারা ধারালো রামদা, চাপাতি, ছুরি, লোহার রড ও হকিস্টিক নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার এক পর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম অন্যদের নির্দেশ দেন তাকে হত্যা করতে। পরে মসজিদের মুসল্লিরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করলে প্রাণে রক্ষা পান। এ সময় হামলাকারীরা মামলা করলে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন নূর আলম।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে সিরাজুল ইসলাম, শাওন, শফিক, শহিদুল্লাহ, সানাউল্লাহ, ইমাম হোসেন শান্ত ও শিপুসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাইবান্ধায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Shah Parvez Songram
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
গাইবান্ধায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

গাইবান্ধায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের ভোলার বাজার এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় বক্তব্য রাখেন মুরাদ হোসেন, মাজেদ হোসেন, মরিয়ম বেগম, ঘানু মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মানববন্ধন শেষে উপস্থিতরা দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

মাদারগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আ.লীগ নেতাকে আদালতে প্রেরণ

Ridoy Hasan
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আ.লীগ নেতাকে আদালতে প্রেরণ

মাদারগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আ.লীগ নেতাকে আদালতে প্রেরণ

হৃদয় হাসান
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ (৪৫)কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে মেলান্দহ উপজেলার বীর সগুনা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কড়ইচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার শিশুটিকে বাড়িতে একা রেখে তার মা বাইরে গেলে মাসুদ সুযোগ নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন এবং এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন।
শিশুটি কান্না করে ঘটনার খবর মাকে জানালে, মা মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর থেকেই মাসুদ পলাতক ছিলেন। পুলিশের অভিযান শেষে তাকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজ