খুঁজুন
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩ চৈত্র, ১৪৩২

পীরগঞ্জ পৌরশহরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান

Sakib Ahsan
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
পীরগঞ্জ পৌরশহরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান

পীরগঞ্জ পৌরশহরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও

 

পীরগঞ্জ পৌরশহরের ঢাকাইয়াপট্টি মার্কেটে সাম্প্রতিক অভিযানটি আবারও প্রমাণ করল খুচরা বাজারের অনিয়ম আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি গভীরভাবে প্রোথিত কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন।
দুপুর দুইটার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পরিচালিত এই অভিযানে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা শুধু আইন লঙ্ঘনের নয়, বরং ভোক্তা নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সরাসরি হুমকি।
অভিযানে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই পণ্যের ক্রয়মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত এমআরপি (MRP) অমান্য করে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা বাজার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্য তালিকা টানানো না থাকার মতো গুরুতর অনিয়ম—যা ভোক্তাদের জন্য একটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মূল্য তালিকা না থাকলে ক্রেতা কখনই বুঝতে পারে না সে ন্যায্য দাম দিচ্ছে কিনা।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বেশ কিছু দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ (date expired) কসমেটিকস বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ধরনের পণ্য সরাসরি মানুষের ত্বক ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। প্রশ্ন হলো এমন ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বাজারে আসছে কীভাবে? সরবরাহ চেইন কি সম্পূর্ণ অকার্যকর, নাকি তদারকির ঘাটতি এতটাই প্রকট?
অভিযানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অবহেলা চোখে পড়ে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকলেও তা কার্যকর বা সঠিকভাবে সংরক্ষিত নয়। একটি ঘনবসতিপূর্ণ বাজার এলাকায় এ ধরনের অবহেলা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে। এটি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং মানবজীবনের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা।
সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মগুলোর মধ্যে একটি ছিল গ্যাস সিলিন্ডারের অবৈধ মজুদ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়, যা যথাযথ অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। গ্যাস সিলিন্ডার একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য; এর অবৈধ মজুদ বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এখানে প্রশ্ন উঠছে—স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি কোথায়?
এই অভিযান কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি বড় সমস্যার উপসর্গ। বাজারে যদি নিয়মিত তদারকি না থাকে, তাহলে ব্যবসায়ীরা সহজেই আইনের ফাঁক গলে অনিয়ম চালিয়ে যেতে পারে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ স্পষ্টভাবে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তব প্রয়োগে এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে।
সমাধান কোথায়? প্রথমত, নিয়মিত ও আকস্মিক অভিযান বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়ীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি যাতে তারা নিজের অধিকার সম্পর্কে জানে এবং প্রয়োজনে অভিযোগ করতে পারে।
সবশেষে, পীরগঞ্জের এই ঘটনা একটি সতর্ক সংকেত। বাজার যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষই। তাই এখনই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ ও ধারাবাহিক তদারকি—নয়তো এই অনিয়ম একসময় ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার কালঞ্জা এলাকায় নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ কালঞ্জা ব্রিজের নিচে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার কালঞ্জা এলাকায় নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ কালঞ্জা ব্রিজের নিচে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
  • সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার কালঞ্জা এলাকায় নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ কালঞ্জা ব্রিজের নিচে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে করে ব্রিজের পিলারের নিচের মাটি কেটে ফেলার ফলে সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গভীর রাতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ব্রিজের নিচ থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তবে কারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
    এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর সংশ্লিষ্ট সাব-ডিভিশন প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা ব্রিজের পাশ বা নিচ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি বন্ধ করে দিচ্ছি।” তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে এখনো এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
    উল্লেখ্য, গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩৮টি পয়েন্টে নিলাম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩২ নম্বর পয়েন্টে কালঞ্জা ব্রিজ থেকে কালঞ্জা বাজার পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকা উল্লেখ ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সীমার বাইরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে মাটি কাটা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
    এদিকে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, ব্রিজের নিচ বা সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কাটার কোনো আইনগত অনুমোদন রয়েছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সেতুর ভিত্তি দুর্বল করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
    এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৬৪ (রায়গঞ্জ, তারাশ ও সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আইনুল হক বলেন, “অনৈতিকভাবে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। যে-ই এর সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
    এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঠাকুরগাঁওয়ে ফুয়েল কার্ডে তেল বিক্রি শুরু, লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের ভোগান্তি

Hasanuzzaman Mintu
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে ফুয়েল কার্ডে তেল বিক্রি শুরু, লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের ভোগান্তি

ঠাকুরগাঁওয়ে ফুয়েল কার্ডে তেল বিক্রি শুরু, লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের ভোগান্তি

হাসিনুজ্জামান মিন্টু ,
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। তবে নতুন এই নিয়ম চালু হলেও সাধারণ মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি কমেনি। তেল নিতে অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো যানবাহনকে জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তেল পেতে চালকদের ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেকেই সকাল ৪টা থেকে ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৯টায় তেল বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কিছু কিছু স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রথম দিনে প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে নির্ধারিত পরিমাণের পরিবর্তে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখন তেল পাওয়া যাবে সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে যাদের কাছে ফুয়েল কার্ড নেই, তারা অনেকেই ফিলিং স্টেশনে এসে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে তেল বিক্রিতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তেল বিতরণ করা এখন সহজ হচ্ছে।

স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুয়েল কার্ড যাচাই করে কঠোরভাবে তেল দেওয়া হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনোভাবেই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।

তবে চালকদের দাবি, শুধু নতুন নিয়ম চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

‎নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

MD Arif Hussain
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
‎নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত‎
‎মো:আরিফ হোসেন।
‎নোয়াখালী প্রতিনিধি।

‎পুলিশ লাইন্সে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার

‎নোয়াখালী জেলা পুলিশের আয়োজনে মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জেলা পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ অফিসার ও ফোর্সদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।

‎প্যারেডে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন।

‎এ সময় প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর। এছাড়াও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‎প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্যারেডে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানান পুলিশ সুপার। পরে তিনি অস্ত্রাগার ও যানবাহন শাখা পরিদর্শন করেন।

ব্রেকিং নিউজ