সরকার বদলায়, দমননীতি বদলায় না: বাউল–বয়াতিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ । ৮:১১ অপরাহ্ণ

বাউল, পালাকার, বয়াতিদের ওপর হামলা যেন থামছেই না। সরকার বদলায়, সময় বদলায়—কিন্তু তাঁদের ওপর দমন–পীড়ন কমে না। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও গত এক বছরে দেশে কয়েক ডজন মাজার ভাঙা হয়েছে, মৃত পীরের কবর উন্মোচন ও মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে।

সংগীতচর্চার ওপর আক্রমণও বেড়েছে। অনুষ্ঠানে হামলা, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া—এসব ঘটনা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। সর্বশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মানিকগঞ্জের বিখ্যাত পালাশিল্পী আবুল সরকার–এর গ্রেপ্তার।

একটি সংগীত পরিবেশনার সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২৩ নভেম্বর নতুন করে খবর আসে—কথিত ‘তৌহিদি জনতা’র হামলায় তাঁর সমর্থকেরা আহত হয়েছেন, পানিতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ কেউ প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নাগরিক সমাজকে বিক্ষুব্ধ করেছে।

এটাই প্রথম নয়।
২০২০ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাউল রিতা দেওয়ান ও বয়াতি শরিয়ত সরকার। ২০২৪–২৫ সালেও বিভিন্ন স্থানে বাউলগানের আসর ভণ্ডুল, বাদ্যযন্ত্র জব্দ, সাধুর মেলা বন্ধ—এমন বহু ঘটনা ঘটেছে। এসবই দেখায়, এটি কোনো একক ঘটনা নয়; বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতা।


সরকার বদলায়, কিন্তু দমননীতি বদলায় না – কেন?

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, দেশে মতপ্রকাশ ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা ফিরে আসবে। কিন্তু অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বাউল–সুফি চর্চার ওপর আগ্রাসন কমেনি।

অনেকে মনে করছেন, সরকারের অভ্যন্তরে বা ক্ষমতাকেন্দ্রের আশেপাশে এমন একটি শক্তি সক্রিয়, যারা উদারপন্থীদের সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—

  • এই দেশ কেন এখনো সবার হচ্ছে না?

  • সংস্কৃতি চর্চাকারীরা কেন নিরাপত্তা পান না?


বাউল–বয়াতিরা ধর্মবিরোধী নন, তাঁরা ধর্মকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন

যারা আক্রমণের শিকার হন, তাঁরা কখনো নাস্তিকতার প্রচার করেন না। বরং গানের ছলে ধর্মের জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তাঁদের ওপর হামলা মানে আসলে বাংলাদেশের উদার সংস্কৃতির ওপর আঘাত।

বাংলার সুফি ঐতিহ্য, পালাগান, বাউল সঙ্গীত—এসব বাদ দিয়ে এই দেশের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। মানবতার বার্তা, আধ্যাত্মিকতার দীক্ষা, সামাজিক শিক্ষার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম ছিল তাঁদের গান।

কিন্তু আজ তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা না বোঝে, কিংবা স্যাটায়ারকে ভুল ব্যাখ্যা করে আগ্রাসী গোষ্ঠী মব–হামলা চালাচ্ছে। এতে মানবতা পরাজিত হচ্ছে, বিবেকের বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন