ঢাকা, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ – জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের অভ্যন্তরীণ পুনর্মিলন এবং নেতৃত্ব পুনর্বহারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার রাতে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দলের বিভিন্ন ইউনিটে আগে বহিষ্কৃত ২০ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারকৃত নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল এবং পাইকগাছা উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ইনামুল হক। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, পাবনা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, কুমিল্লা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরও ১৮ নেতার অন্তর্ভুক্তি রয়েছে। পঞ্চগড়ের খন্দকার আবু সালে ইব্রাহিমের মতো নেতাদের ক্ষেত্রে, যারা পূর্বে পদত্যাগ করেছিলেন, তাদের পদত্যাগপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দল সম্প্রতি একাধিক পর্যায়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। এই ধারা নির্দেশ করছে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুধু শাস্তি নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্মিলনের ওপর জোর দিচ্ছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে স্থানীয় ইউনিটে নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ হবে এবং দলীয় কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আসতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনকালীন সময়ে দলের জন্য কার্যকর হবে। এটি দলে সংহতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের পুনঃপ্রবেশ নিশ্চিত করবে। তবে পুনর্বহারের নেতারা যদি সক্রিয়ভাবে ভূমিকা না নেন, তবে এর কার্যকর প্রভাব সীমিত হতে পারে।
বিএনপির ২০ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এই দলে পুনর্মিলন ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু শাস্তি প্রত্যাহার নয়, বরং পুরনো নেতাদের পুনর্বহারের মাধ্যমে দলের শক্তি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা।

জান্নাতুল মাইশা
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ । ৩:০৮ অপরাহ্ণ