রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা জানিয়েছেন। সোমবার ভোরে লাগা এ অগ্নিকাণ্ডে অল্পসময়ের মধ্যেই শতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। অসংখ্য পরিবারের সব স্বপ্ন মুহূর্তেই ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রধান উপদেষ্টা এক বিবৃতিতে বলেন, “কড়াইল বস্তির এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মনকে ব্যথিত করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করব।” তিনি দমকল কর্মীদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
আগুন লাগার পরপরই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে এবং প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছে। প্রধান উপদেষ্টা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই সংকটের মুহূর্তে সবাইকে মানবিকতার পরিচয় দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।”
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে। আগুনে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে যাওয়া অসংখ্য পরিবার এখন পুনর্বাসনের অপেক্ষায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর বস্তি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সংকীর্ণ গলি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও ঘনবসতির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে বস্তিগুলোতে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
কড়াইল বস্তির এ অগ্নিকাণ্ড কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি শহুরে ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাত্রার এক কঠিন বাস্তবতা। প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ, সমবেদনা ও সহায়তার ঘোষণা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ । ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ