প্লট দূর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ । ১:৪১ অপরাহ্ণ

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫ আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আলোচিত প্লট দুর্নীতি মামলার তিনটি পৃথক অভিযোগে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দেওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রতিটি মামলায় ৭ বছর করে সাজা দেওয়া হয় এবং সাজাগুলো ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হওয়ায় মোট সাজা দাঁড়িয়েছে ২১ বছর। রায় ঘোষণার সময় শেখ হাসিনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তিনি পলাতক অবস্থায় ছিলেন বলে আদালত উল্লেখ করে। এই মামলাগুলো ২০২৫ সালের শুরুতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করেছিল, যেখানে অভিযোগ ছিল—পূর্বাচল প্রকল্পের প্রায় ৩০ কাঠা সরকারি জমি কোনো আইনগত আবেদন ছাড়াই এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ইচ্ছামতো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করে ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্লট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল, যা সরাসরি দুর্নীতির শামিল। একই মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকেও ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে—সরকারি সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনও স্বচ্ছতা বা সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে।

বিচারক রায়ে বলেন, “রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপরাধ কঠোর শাস্তিযোগ্য।” এই রায় ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক, কারণ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন সাজা নজিরবিহীন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ফলে আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুনভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। দলের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তবে আপিল হলেও রায় কার্যকর হওয়ার আগে কত সময় লাগবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো দেশজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। রায়ের ফলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং বিচারিক পরিবেশে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব আরও পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন