মানিকগঞ্জে ভোটের মাঠে জোর প্রচারণা শুরু: ‎জটিল সমীকরণের পথে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন

আব্দুল গফুর খান, জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ । ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জে ভোটের মাঠে জোর প্রচারণা শুরু: ‎জটিল সমীকরণের পথে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন
‎
আব্দুল গফুর খান, জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
‎
‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে।
‎
‎বিভিন্ন মহলের আলোচনা থেকে এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তুলনামূলকভাবে নির্বাচনী সমীকরণকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।
‎
‎এতে দেখা গেছে মানিকগঞ্জ–১ ও মানিকগঞ্জ–৩ আসনে ‎বিএনপির দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপি। তবে এর মধ্যে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা। তার প্রতীক ধানের শীষ। অপর দিকে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দলীয় বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা। তার প্রতীক ফুটবল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীকের আলাদা কদর থাকায় এবং আফরোজা খান রিতার পারিবারিক ও রাজনৈতিক বলয়ের দিক বিশ্লেষণ করলে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জয়ের পাল্লাটা এখনও আফরোজা খান রিতার দিকেই রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন।
‎
‎ মানিকগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে অনেকের মন্তব্যে উঠে এসেছে। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের এস এ জিন্নাহ কবীরের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ঘোড়া প্রতীকে তোজাম্মেল হক তোজা। এছাড়া এ আসনে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোট প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. আবু বকর সিদ্দিক। তিনিও এই আসনে জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করেছেন। ফলে আসনটিতে এখন পর্যন্ত ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মতে উঠে এসেছে।
‎
‎রাজধানী সংলগ্ন উপজেলা সিংগাইর ও পদ্মা অধ্যুষিত উপজেলা হরিরামপুর এবং জেলা সদরের দুইটি ইউনিয়নসহ গঠিত মানিকগঞ্জ–২ সংসদীয় আসন। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত মন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়ামিয়ার ছেলে সাবেক মানিকগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। তিনি দলীয় ধানের শীষ প্রতীক নির্বাচনী মাঠে বেশ সক্রিয় রয়েছেন। উঠান বৈঠক, পথসভা ও ঘরে ঘরে গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন তিনি।
‎স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, সাবেক এমপি হিসেবে তার পরিচিতি, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা এই আসনে তাকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রেখেছে। সাধারণ ভোটারদের মাঝেও তার প্রতি ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
‎
‎অন্যদিকে, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিসের পক্ষে প্রার্থী মুহাদ্দিস শেখ মো. সালাহ উদ্দিন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তিনি হলেন সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি মনোনীত এস এম আব্দুল মান্নান। তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। এতে করে দেখা গেছে এ আসনে ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অনেকে মনে করছেন। এ আসনেও শেষ পর্যন্ত ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তবে বিএনপি অধ্যুষিত জেলা হওয়ায় এ আসনে পরিশেষে প্রতীকের ওপর অনেকটাই জয়ের সমুহসম্ভবনা জাগতে পারে বলেও অনেক বোদ্ধারা মনে করছেন।
‎
‎তবে সার্বিক চিত্রে এখন পর্যন্ত দেখা গেছে, সব মিলিয়ে মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের মধ্যে মানিকগঞ্জ–২ ও মানিকগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপি স্পষ্টভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অপরদিকে মানিকগঞ্জ–১ আসনে দলীয় বিভক্তি ও শক্ত বিদ্রোহী প্রতিদ্বন্দ্বীর কারণে ভোটের সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠতে পারে।
‎
‎এক্ষেত্রে নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রচারণার গতি বাড়ছে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠছে পুরো মানিকগঞ্জ। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটারদের রায়ের—শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বিজয়ের মুকুট, সেটিই দেখার বিষয়।
‎
‎

প্রিন্ট করুন