খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

আজ আবারো দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত; কত মাত্রার ছিল জানুন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
আজ আবারো দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত; কত মাত্রার ছিল জানুন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ সকালেই আবার অনুভূত হলো ভূমিকম্পের কম্পন। হঠাৎ ভবন কেঁপে ওঠায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে। অনেকেই ঘর, অফিস, দোকানপাট থেকে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। যদিও ভূমিকম্পটি ছিল মৃদু মাত্রার, তবে পরপর কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় মানুষের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।

আজ সকাল প্রায় ৬টা ১৪ মিনিটের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা—মিরপুর, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগসহ বেশ কিছু জায়গায় কম্পন টের পান সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তেই মানুষ তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “হঠাৎ সবকিছু দুলে উঠল। বুঝতেই পারিনি কি ঘটছে”—এমন মন্তব্যও করেন অনেকে। বিশেষ করে উচ্চতলায় অবস্থান করা মানুষজন বেশি আতঙ্কিত হন, কারণ উঁচু ভবনে ভূমিকম্পের অনুভূতি আরো স্পষ্ট হয়।

এবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের কাছাকাছি একটি এলাকা, তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ এর আশেপাশে ছিল, যা মৃদু হলেও অস্বাভাবিক নয়। তবে রাজধানীর ঘনবসতি ও উচ্চ ভবনের কারণে কম্পন সামান্য হলেও মানুষের মনে ভয় কাজ করে।

দেশের অন্যান্য স্থানের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও হালকা কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেকে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ কম্পনে ভয় পেয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। বিশেষত পুরনো ভবনের বাসিন্দারা বেশি আতঙ্কিত হন। গত কয়েক বছরে পুরনো ভবনগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে—এমন তথ্য থাকায় এই ধরনের ভবনে ভূমিকম্প মানুষকে বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ এখন ভূমিকম্প ঝুঁকির একটি সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। ভারতীয় প্লেট ও মিয়ানমার প্লেটের সংযোগস্থলে চাপ বাড়ার কারণে প্রায়ই মৃদু ভূমিকম্প হচ্ছে। এগুলো বড় ভূমিকম্পের আগের স্বাভাবিক সিগন্যাল হতে পারে বা নাও হতে পারে। তবে সতর্ক থাকা জরুরি।”

সম্প্রতি একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগও সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। আগের কয়েকটি ভূমিকম্পে আতঙ্কে মানুষ সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আহত হয়েছিল, তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে শান্তভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত।

এদিকে, ভূমিকম্পের সময় কী করবেন—এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

  • ভূমিকম্প অনুভব করলে দ্রুত ভবনের লিফট ব্যবহার করা যাবে না
  • টেবিল, বেড বা শক্ত কোনো আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ
  • মাথা ও ঘাড় রক্ষার জন্য হাতে বালিশ, ব্যাগ বা বই ব্যবহার করা যায়
  • যদি বাইরে থাকেন তবে ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ থেকে দূরে থাকতে হবে

রাজধানীসহ দেশের নানা এলাকায় আজকের এই হালকা ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন—বারবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, নিয়মিত পরিদর্শন ও নগর পরিকল্পনায় বিশেষ সতর্কতা এখন সময়ের দাবি।

ধারাবাহিক ভূমিকম্পে অনেকে মনে করছেন বাংলাদেশ হয়ত একটি বড় ভূমিকম্পের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন—এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়, তবে ঝুঁকি সবসময়ই থেকে যায়। তাই নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের ভূমিকম্পে কোনো বড় ক্ষতি না হলেও মানুষের মনে যে আতঙ্ক জন্মেছে—তা সাম্প্রতিক সময়ের ভূমিকম্পগুলোকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ছোট ছোট কম্পন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাস করছি, তাই সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এই নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক দিনে একাধিকবার ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তবে আতঙ্ক নয়—প্রস্তুতিই আমাদের রক্ষা করতে পারে, এটাই বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

Fahim Islam
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম

দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তিনি একাধিকবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। তবুও দলীয় আদর্শে অটল থেকে এলাকায় সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে জলমা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সুশাসিত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। জাহিদুল ইসলামের সমর্থকরা আশাবাদী, জনগণের ভোটে তিনি বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত সূচনা করবেন।

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

Shakib Ahsan
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলার সম্পর্ক বিশ্লেষণ

সাকিব আহসান
পীরগঞ্জ,ঠাকুরগাঁও

উত্তরবঙ্গের এই দুই ভূখণ্ডের সম্পর্ক কেবল সীমান্তঘেঁষা প্রতিবেশিত্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতির দীর্ঘস্থায়ী এক জটিল সমীকরণ।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে বোচাগঞ্জ বর্তমানে দিনাজপুর জেলা-এর অন্তর্ভুক্ত হলেও, পীরগঞ্জের সঙ্গে এর সম্পর্কের শেকড় প্রোথিত রয়েছে অতীতে, যা আজও নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চল বৃহত্তর দিনাজপুরের অংশ ছিল। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত প্রশাসনিক কাঠামো, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং বাজার অর্থনীতি—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। জমিদারি প্রথার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারগুলো উভয় এলাকাতেই কর্তৃত্ব বিস্তার করত। ফলে পীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জের মানুষের মধ্যে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। বিবাহ, উৎসব, হাট-বাজার—সব ক্ষেত্রেই ছিল একধরনের আন্তঃনির্ভরতা।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই দুই উপজেলার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পীরগঞ্জের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ধান, গম ও ভুট্টা, বোচাগঞ্জের বাজারে সহজেই প্রবেশ করত। আবার বোচাগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পীরগঞ্জের হাটগুলোকে ব্যবহার করতেন পণ্য সরবরাহের জন্য। স্থানীয় হাট যেমন—গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র—দুই উপজেলার মানুষের জন্য ছিল এক যৌথ প্ল্যাটফর্ম। এতে করে একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হয়, যা প্রশাসনিক বিভাজনের পরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তবে ১৯৮৪ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা পৃথক জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই সম্পর্কের গতি পরিবর্তন হতে শুরু করে। বোচাগঞ্জ দিনাজপুরের অধীনে থেকে যায়, আর পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁওয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে। এই বিভাজন উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট বণ্টন এবং অবকাঠামোগত অগ্রাধিকারে পার্থক্য সৃষ্টি করে। ফলে পূর্বের সমন্বিত অগ্রযাত্রা ধীরে ধীরে ভিন্নমুখী হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিকভাবে, এই দুই উপজেলার কিছু প্রভাবশালী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। তারা নির্বাচন, দলীয় রাজনীতি, এমনকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করেছে। এই পরিবারগুলোকে অনেকেই “অঞ্চলের মস্তিষ্ক” হিসেবে আখ্যায়িত করেন, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান প্রায়শই বৃহত্তর জনমতের ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—এই প্রভাব কি সর্বদা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়েছে?
বাস্তবতা হলো, কিছু ক্ষেত্রে এসব রাজনৈতিক পরিবারের ইতিবাচক ভূমিকা যেমন রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, সড়ক উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ—তেমনি রয়েছে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগও। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের দ্বৈত অনুভূতি তৈরি হয়েছে—একদিকে নির্ভরতা, অন্যদিকে অসন্তোষ।
বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সমন্বিত বাজার ব্যবস্থার অভাব এবং প্রশাসনিক ভিন্নতার কারণে যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না। অথচ কৃষিভিত্তিক শিল্প, সংরক্ষণাগার, এবং আন্তঃউপজেলা বাণিজ্যিক করিডোর গড়ে তোলা গেলে এই অঞ্চল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হতে পারে।
এখানেই আসে কৌশলগত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন। প্রথমত, দুই উপজেলার মধ্যে অবকাঠামোগত সংযোগ—বিশেষ করে সড়ক ও পরিবহন—উন্নত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, যৌথ হাট-বাজার আধুনিকায়ন ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তঃজেলা সমন্বয় বাড়িয়ে একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ফোরাম গঠন করা সম্ভব, যেখানে উভয় উপজেলার প্রতিনিধিরা একসঙ্গে পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
সবশেষে বলা যায়, পীরগঞ্জ ও বোচাগঞ্জের সম্পর্ক কোনো সাধারণ ভৌগোলিক সংযোগ নয়; এটি একটি জীবন্ত ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। প্রশাসনিক বিভাজন এই সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতায় নিয়ে গেলেও, এর অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বন্ধন এখনো অটুট। এই বন্ধনকে যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনর্গঠন করা যায়, তবে এটি উত্তরবঙ্গের জন্য একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠতে পারে।

পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

Sakib Ahsan
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

পীরগঞ্জে কৃষিতে বৈচিত্র্য; জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে নতুন নতুন ফসলের আবাদে এগিয়ে আসছেন কৃষকরা। বিশেষ করে জি-৯ জাতের কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ এবং বিভিন্ন জাতের আঙুর চাষ ইতোমধ্যে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্যমতে, এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে কৃষির চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে জি-৯ জাতের কলার আবাদ করা হয়েছে। এটি মূলত সাগর কলার একটি উন্নত জাত, যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—গাছ থেকে কলা কাটার পরও ২০ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত পাকার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলে। ফলে সংরক্ষণ ও পরিবহনে সুবিধা হয়, যা রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক।
তিনি আরও বলেন, “এই জাতের কলা দীর্ঘ সময় ভালো অবস্থায় থাকে বলে দেশের বাইরে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে কৃষকেরা এখান থেকে ভালো লাভবান হতে পারবেন।”
অন্যদিকে, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ হিসেবে পরিচিত শীতকালীন পেঁয়াজ বীজের আবাদও পীরগঞ্জে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এই বীজের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি এবং ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
কৃষি কর্মকর্তা জানান, “কৃষকেরা যদি ন্যায্য মূল্য পান, তাহলে আগামী মৌসুমে এই পেঁয়াজ বীজের আবাদ আরও বিস্তৃত হবে। এটি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে বড় বাজার তৈরি করতে পারে।”
এছাড়া উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ৮ থেকে ১০টি জাতের আঙুর চাষ শুরু হয়েছে, যা বর্তমানে প্রায় ৮০ শতক জমিতে বিস্তৃত। দেশের আবহাওয়ায় আঙুর চাষ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিকভাবে ফলাফল আশাব্যঞ্জক। যদি উৎপাদন ভালো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আঙুর চাষের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।”
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, নতুন এসব ফসল চাষে শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় তারা এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে লাভজনক বাজার নিশ্চিত হলে কৃষিতে এই পরিবর্তন আরও গতি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একক ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখী চাষাবাদ কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কমায় এবং আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে। পীরগঞ্জে জি-৯ কলা, শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ ও আঙুর চাষের এই উদ্যোগ সেই পথেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পীরগঞ্জের কৃষি খাত আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই হয়ে উঠবে।

ব্রেকিং নিউজ