খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ, ১৪৩২

আজ আবারো দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত; কত মাত্রার ছিল জানুন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
আজ আবারো দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত; কত মাত্রার ছিল জানুন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ সকালেই আবার অনুভূত হলো ভূমিকম্পের কম্পন। হঠাৎ ভবন কেঁপে ওঠায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে। অনেকেই ঘর, অফিস, দোকানপাট থেকে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। যদিও ভূমিকম্পটি ছিল মৃদু মাত্রার, তবে পরপর কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় মানুষের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে।

আজ সকাল প্রায় ৬টা ১৪ মিনিটের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা—মিরপুর, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগসহ বেশ কিছু জায়গায় কম্পন টের পান সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তেই মানুষ তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “হঠাৎ সবকিছু দুলে উঠল। বুঝতেই পারিনি কি ঘটছে”—এমন মন্তব্যও করেন অনেকে। বিশেষ করে উচ্চতলায় অবস্থান করা মানুষজন বেশি আতঙ্কিত হন, কারণ উঁচু ভবনে ভূমিকম্পের অনুভূতি আরো স্পষ্ট হয়।

এবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের কাছাকাছি একটি এলাকা, তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ এর আশেপাশে ছিল, যা মৃদু হলেও অস্বাভাবিক নয়। তবে রাজধানীর ঘনবসতি ও উচ্চ ভবনের কারণে কম্পন সামান্য হলেও মানুষের মনে ভয় কাজ করে।

দেশের অন্যান্য স্থানের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও হালকা কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেকে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ কম্পনে ভয় পেয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। বিশেষত পুরনো ভবনের বাসিন্দারা বেশি আতঙ্কিত হন। গত কয়েক বছরে পুরনো ভবনগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে—এমন তথ্য থাকায় এই ধরনের ভবনে ভূমিকম্প মানুষকে বেশি দুশ্চিন্তায় ফেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ এখন ভূমিকম্প ঝুঁকির একটি সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। ভারতীয় প্লেট ও মিয়ানমার প্লেটের সংযোগস্থলে চাপ বাড়ার কারণে প্রায়ই মৃদু ভূমিকম্প হচ্ছে। এগুলো বড় ভূমিকম্পের আগের স্বাভাবিক সিগন্যাল হতে পারে বা নাও হতে পারে। তবে সতর্ক থাকা জরুরি।”

সম্প্রতি একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগও সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। আগের কয়েকটি ভূমিকম্পে আতঙ্কে মানুষ সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আহত হয়েছিল, তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে শান্তভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত।

এদিকে, ভূমিকম্পের সময় কী করবেন—এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—

  • ভূমিকম্প অনুভব করলে দ্রুত ভবনের লিফট ব্যবহার করা যাবে না
  • টেবিল, বেড বা শক্ত কোনো আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ
  • মাথা ও ঘাড় রক্ষার জন্য হাতে বালিশ, ব্যাগ বা বই ব্যবহার করা যায়
  • যদি বাইরে থাকেন তবে ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ থেকে দূরে থাকতে হবে

রাজধানীসহ দেশের নানা এলাকায় আজকের এই হালকা ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন—বারবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, নিয়মিত পরিদর্শন ও নগর পরিকল্পনায় বিশেষ সতর্কতা এখন সময়ের দাবি।

ধারাবাহিক ভূমিকম্পে অনেকে মনে করছেন বাংলাদেশ হয়ত একটি বড় ভূমিকম্পের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন—এমন ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়, তবে ঝুঁকি সবসময়ই থেকে যায়। তাই নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের ভূমিকম্পে কোনো বড় ক্ষতি না হলেও মানুষের মনে যে আতঙ্ক জন্মেছে—তা সাম্প্রতিক সময়ের ভূমিকম্পগুলোকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ছোট ছোট কম্পন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বসবাস করছি, তাই সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এই নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক দিনে একাধিকবার ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তবে আতঙ্ক নয়—প্রস্তুতিই আমাদের রক্ষা করতে পারে, এটাই বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজির দাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বেড়েছে চাল ডালের দাম, কমছে না সবজির দাম

শীত মৌসুমে সরবরাহ বাড়ার কথা থাকলেও দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দামে সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলছে না। চাল, ডাল ও সবজির দাম একসঙ্গে বাড়ায় বা স্থিতিশীলভাবে উচ্চ অবস্থানে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচ আরও চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কালবেলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা শহরের বাজারগুলোতে মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিপ্রতি কয়েক টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মিনিকেট, নাজিরশাইল ও চিকন জাতের চাল এখন আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা দৈনন্দিন খাবারের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চালের পাশাপাশি ডালের বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। মসুর, মুগ ও ছোলার মতো জনপ্রিয় ডালের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়ে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। অনেক ক্রেতা জানান, আগে যেখানে নির্দিষ্ট বাজেটে মাসের বাজার করা যেত, এখন সেখানে পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হচ্ছে।

সবজির ক্ষেত্রেও একই চিত্র। শীতকালীন সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন ও কাঁচা মরিচ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি। কিছু সবজির দাম সামান্য কমলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। ফলে বাজারে পণ্য থাকলেও ক্রেতাদের জন্য তা স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি দরের চাপ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দাম কমানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরবরাহ চেইনে তদারকি বাড়ানো না গেলে নিত্যপণ্যের এই মূল্যচাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সার্বিকভাবে চাল, ডাল ও সবজির একসঙ্গে বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, আর বাজারে স্বস্তির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।

মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

হৃদয় হাসান (জামালপুর প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হৃদয় (২৪) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি)  সকালে মাদারগঞ্জ পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয়, পৌরসভার বালিজুড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও একই এলাকার হাসান ফকিরের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, সকালে পৌর ভবনের নির্মাণাধীন গেটের ছাদের ওপর কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত সেখানে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন হৃদয়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে নিচে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর হৃদয়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে তার শরীর গরম ছিল এবং নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এ অবস্থায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে দ্বিতীয়বারও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা আরও  অভিযোগ করে বলেন , হাসপাতালের চিকিৎসকরা  অবহেলা না করে যদি  সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিতো তাহলে হৃদয়কে বাঁচানো যেত। এদিকে চিকিৎসকের অবহেলার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের শান্ত করেন। এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,আমাদের চিকিৎসক সব প্রসিডিউর মেনেই তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন। রোগীর স্বজনদের এটা ভুল বুঝাবুঝি। মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন,ডাক্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা দাবি করেছেন পরীক্ষা -নিরীক্ষা করেই রোগীকে মৃত ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে  আইন প্রয়োগ করা হবে।

অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

আরিফ হোসেন (নোয়াখালি প্রতিনিধি)
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
অতিথি পাখির আগমনের প্রাণ ফিরেছে নিঝুম দ্বীপে

শীতের ভোর, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো নিঝুম দ্বীপ তখনো ঘুম ভাঙেনি পুরোপুরি। হঠাৎ নদীর বুকে ডানা ঝাপটানোর শব্দ এক ঝাঁক অতিথি পাখি উড়ে গেল আলো ফোটার আগেই। মুহূর্তেই বোঝা যায়, শীত এলেই নিঝুম দ্বীপ শুধু একটি দ্বীপ নয়, হয়ে ওঠে ডানার রাজ্য। এখানে প্রকৃতি কথা বলে, আর পাখিরা সেই কথার ভাষা।

প্রতিবছর শীত এলেই সুদূর সাইবেরিয়া, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও হিমালয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসে আশ্রয় নেয় নোয়াখালী জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিছিন্ন নিঝুম দ্বীপে । অক্টোবরের শেষ দিক থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই দ্বীপজুড়ে চলে অতিথি পাখির নীরব উৎসব। খাল, বিল, নদীর চর আর বনভূমি ভরে ওঠে তাদের কলতানে।

নিঝুম দ্বীপের চরাঞ্চলে হাঁটলে দেখা মেলে পাতিহাঁস, নীলশির, সরালি, লেঞ্জা, বাটান, পানকৌড়ি ও গাংচিলের দল। কখনো তারা নদীর জলে খাবার খোঁজে, কখনো চরজুড়ে বিশ্রামে বসে। সূর্যের আলো গায়ে মেখে ডানা ঝাপটানোর সেই দৃশ্য যে কাউকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দেয়। ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এ যেন প্রকৃতির তৈরি এক জীবন্ত সিনেমা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে শীতকালে তাপমাত্রা ভয়াবহভাবে কমে যায়। বরফে ঢেকে যায় জলাশয় ও খাদ্যভূমি। তখন খাদ্যের সন্ধানে এবং উষ্ণতার খোঁজে পাখিরা পাড়ি জমায় দক্ষিণ এশিয়ার দিকে। বাংলাদেশে শীতকালে আবহাওয়া তুলনামূলক সহনীয় এবং জলাভূমিতে খাবারের অভাব না থাকায় অতিথি পাখিরা এখানে নিরাপদ আশ্রয় পায়।

নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এই পাখিদের টানে। বিস্তৃত চর, নদী, বন আর নির্জন পরিবেশ পাখিদের জন্য আদর্শ আবাসভূমি তৈরি করেছে। তাই প্রতিবছর নির্দিষ্ট মৌসুমে তারা আবার ফিরে আসে এই দ্বীপে যেন পুরোনো ঠিকানায় ফেরা।

শীতের সকালে পর্যটক ও আলোকচিত্রীরা ভিড় করেন নিঝুম দ্বীপে। ভোরের আলোয় নদীর বুকে পাখির উড়াল, চরাঞ্চলে তাদের কলতান সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে নিঝুম দ্বীপ মানেই এই শীতের পাখির উৎসব। কেউ আসে ছবি তুলতে, কেউ আসে প্রকৃতির কাছে একটু শান্তি খুঁজতে।

তবে এই সৌন্দর্যের মাঝেই লুকিয়ে আছে শঙ্কা। অতিথি পাখি শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংস হলে এই উৎসব থেমে যেতে পারে। পরিবেশবাদী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা ও কঠোর নজরদারি জরুরি। পাখিরা নিরাপদ থাকলেই নিঝুম দ্বীপ তার এই অনন্য সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবে।

মার্চ-এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা বাড়লে অতিথি পাখিরা আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়। তখন নিঝুম দ্বীপ কিছুটা নীরব হয়ে পড়ে। তবে রেখে যায় স্মৃতি ডানার শব্দ, কলতান আর শীতের সকালের অপার মুগ্ধতা।

শীতে নিঝুম দ্বীপে অতিথি পাখির এই আগমন শুধু প্রকৃতির ঘটনা নয়, এটি এক অনুভূতি। যারা একবার এই ডানার মেলায় হারিয়ে গেছে, তারা জানে নিঝুম দ্বীপ শীতে শুধু দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়।

ব্রেকিং নিউজ