খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

বাউল, পালাকার, বয়াতিদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতা থামছে না; সরকারের পরিবর্তন হলেও সংস্কৃতি–চর্চাকারীদের ওপর দমন–পীড়ন কমেনি।

সরকার বদলায়, দমননীতি বদলায় না: বাউল–বয়াতিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১১ অপরাহ্ণ
সরকার বদলায়, দমননীতি বদলায় না: বাউল–বয়াতিরা

বাউল, পালাকার, বয়াতিদের ওপর হামলা যেন থামছেই না। সরকার বদলায়, সময় বদলায়—কিন্তু তাঁদের ওপর দমন–পীড়ন কমে না। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও গত এক বছরে দেশে কয়েক ডজন মাজার ভাঙা হয়েছে, মৃত পীরের কবর উন্মোচন ও মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে।

সংগীতচর্চার ওপর আক্রমণও বেড়েছে। অনুষ্ঠানে হামলা, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া—এসব ঘটনা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। সর্বশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মানিকগঞ্জের বিখ্যাত পালাশিল্পী আবুল সরকার–এর গ্রেপ্তার।

একটি সংগীত পরিবেশনার সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২৩ নভেম্বর নতুন করে খবর আসে—কথিত ‘তৌহিদি জনতা’র হামলায় তাঁর সমর্থকেরা আহত হয়েছেন, পানিতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ কেউ প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নাগরিক সমাজকে বিক্ষুব্ধ করেছে।

এটাই প্রথম নয়।
২০২০ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাউল রিতা দেওয়ান ও বয়াতি শরিয়ত সরকার। ২০২৪–২৫ সালেও বিভিন্ন স্থানে বাউলগানের আসর ভণ্ডুল, বাদ্যযন্ত্র জব্দ, সাধুর মেলা বন্ধ—এমন বহু ঘটনা ঘটেছে। এসবই দেখায়, এটি কোনো একক ঘটনা নয়; বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতা।


সরকার বদলায়, কিন্তু দমননীতি বদলায় না – কেন?

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, দেশে মতপ্রকাশ ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা ফিরে আসবে। কিন্তু অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বাউল–সুফি চর্চার ওপর আগ্রাসন কমেনি।

অনেকে মনে করছেন, সরকারের অভ্যন্তরে বা ক্ষমতাকেন্দ্রের আশেপাশে এমন একটি শক্তি সক্রিয়, যারা উদারপন্থীদের সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—

  • এই দেশ কেন এখনো সবার হচ্ছে না?

  • সংস্কৃতি চর্চাকারীরা কেন নিরাপত্তা পান না?


বাউল–বয়াতিরা ধর্মবিরোধী নন, তাঁরা ধর্মকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন

যারা আক্রমণের শিকার হন, তাঁরা কখনো নাস্তিকতার প্রচার করেন না। বরং গানের ছলে ধর্মের জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তাঁদের ওপর হামলা মানে আসলে বাংলাদেশের উদার সংস্কৃতির ওপর আঘাত।

বাংলার সুফি ঐতিহ্য, পালাগান, বাউল সঙ্গীত—এসব বাদ দিয়ে এই দেশের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। মানবতার বার্তা, আধ্যাত্মিকতার দীক্ষা, সামাজিক শিক্ষার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম ছিল তাঁদের গান।

কিন্তু আজ তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা না বোঝে, কিংবা স্যাটায়ারকে ভুল ব্যাখ্যা করে আগ্রাসী গোষ্ঠী মব–হামলা চালাচ্ছে। এতে মানবতা পরাজিত হচ্ছে, বিবেকের বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে।

ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড়ে প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে এক যুবকের অভিনব প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহের গাঙ্গিনারপাড়ে প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে এক যুবকের অভিনব প্রতিবাদ

‎প্রধানমন্ত্রী অবগত, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ হবেই: এ্যানি

MD.Arif Hosaain
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
‎প্রধানমন্ত্রী অবগত, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ হবেই: এ্যানি

প্রধানমন্ত্রী অবগত, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ হবেই: এ্যানি

মোঃ আরিফ হোসেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি।

 

‎প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের দুঃখ বোঝেন। তিনি জরুরি ভিত্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

‎মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের আমন্ত্রণে মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। এ সময় বন-পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।

‎এ্যানি বলেন, নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যা অচিরেই একনেকে তোলা হবে।

‎তিনি বলেন, ২০০৩ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় নদীভাঙা মানুষের দুঃখ বুঝে ২৩ ভেন্টের এ রেগুলেটর নির্মাণ করেন। কিন্তু ভারতের উজানের ঢল ও ভয়াবহ বন্যায় গত ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ প্রকল্প নিয়ে আন্তরিক।

‎নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনারের বক্তব্য রাখেন, বন-পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

মুরাদনগরের খামারগ্রামে শতবর্ষের ঐতিহ্যে প্রায় ৪ শতাধিক মুসল্লির ইতেকাফ, যুবসমাজের মেহমানদারী

Saiful Sarkar
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
মুরাদনগরের খামারগ্রামে শতবর্ষের ঐতিহ্যে প্রায় ৪ শতাধিক মুসল্লির ইতেকাফ, যুবসমাজের মেহমানদারী

মুরাদনগরের খামারগ্রামে শতবর্ষের ঐতিহ্যে প্রায় ৪ শতাধিক মুসল্লির ইতেকাফ, যুবসমাজের মেহমানদারী

 

সাইফুল সরকার মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খামারগ্রাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশকে প্রায় চার শতাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে ইতেকাফ পালিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

জানা যায়, সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফের পীর সাহেবগণ ও তাদের ভক্ত-মুরিদানদের অংশগ্রহণে এই মসজিদে বহু বছর ধরে ইতেকাফের আয়োজন হয়ে আসছে। চলতি বছরের ২০ রমজান থেকে দরবার শরীফের বর্তমান পীর সাহেব অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন মুসল্লি রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফে বসেছেন।

 

ইতেকাফের প্রথম দিনে আগত মুসল্লিদের জন্য ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরির আয়োজন করে খামারগ্রাম দক্ষিণপাড়া যুবসমাজ। প্রতি বছরের মতো এবারও তারা নিজেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় এই আয়োজন সম্পন্ন করেন।

 

এ বিষয়ে পীর সাহেব অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমান বলেন,

“আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দাদা হুজুরের সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে রমজানের শেষ দশ দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের নিয়ে ইতেকাফ পালন করা হয়ে আসছে। ইতেকাফে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা দিন-রাত ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে থাকেন। খামারগ্রাম ও আশেপাশের এলাকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে মুসল্লিদের খেদমত করে থাকেন।”

 

তিনি আরও বলেন, ইতেকাফ চলাকালীন দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় প্রতিদিন বিশেষ দোয়া করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, শত বছরের এই ধর্মীয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে খামারগ্রামের যুবসমাজ ও এলাকাবাসী একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই মহতী উদ্যোগকে এলাকাবাসী প্রশংসা করেছেন।

ব্রেকিং নিউজ