খুঁজুন
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

বাউল, পালাকার, বয়াতিদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতা থামছে না; সরকারের পরিবর্তন হলেও সংস্কৃতি–চর্চাকারীদের ওপর দমন–পীড়ন কমেনি।

সরকার বদলায়, দমননীতি বদলায় না: বাউল–বয়াতিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১১ অপরাহ্ণ
সরকার বদলায়, দমননীতি বদলায় না: বাউল–বয়াতিরা

বাউল, পালাকার, বয়াতিদের ওপর হামলা যেন থামছেই না। সরকার বদলায়, সময় বদলায়—কিন্তু তাঁদের ওপর দমন–পীড়ন কমে না। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও গত এক বছরে দেশে কয়েক ডজন মাজার ভাঙা হয়েছে, মৃত পীরের কবর উন্মোচন ও মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে।

সংগীতচর্চার ওপর আক্রমণও বেড়েছে। অনুষ্ঠানে হামলা, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া—এসব ঘটনা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। সর্বশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মানিকগঞ্জের বিখ্যাত পালাশিল্পী আবুল সরকার–এর গ্রেপ্তার।

একটি সংগীত পরিবেশনার সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২৩ নভেম্বর নতুন করে খবর আসে—কথিত ‘তৌহিদি জনতা’র হামলায় তাঁর সমর্থকেরা আহত হয়েছেন, পানিতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ কেউ প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নাগরিক সমাজকে বিক্ষুব্ধ করেছে।

এটাই প্রথম নয়।
২০২০ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাউল রিতা দেওয়ান ও বয়াতি শরিয়ত সরকার। ২০২৪–২৫ সালেও বিভিন্ন স্থানে বাউলগানের আসর ভণ্ডুল, বাদ্যযন্ত্র জব্দ, সাধুর মেলা বন্ধ—এমন বহু ঘটনা ঘটেছে। এসবই দেখায়, এটি কোনো একক ঘটনা নয়; বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতা।


সরকার বদলায়, কিন্তু দমননীতি বদলায় না – কেন?

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, দেশে মতপ্রকাশ ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা ফিরে আসবে। কিন্তু অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বাউল–সুফি চর্চার ওপর আগ্রাসন কমেনি।

অনেকে মনে করছেন, সরকারের অভ্যন্তরে বা ক্ষমতাকেন্দ্রের আশেপাশে এমন একটি শক্তি সক্রিয়, যারা উদারপন্থীদের সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—

  • এই দেশ কেন এখনো সবার হচ্ছে না?

  • সংস্কৃতি চর্চাকারীরা কেন নিরাপত্তা পান না?


বাউল–বয়াতিরা ধর্মবিরোধী নন, তাঁরা ধর্মকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন

যারা আক্রমণের শিকার হন, তাঁরা কখনো নাস্তিকতার প্রচার করেন না। বরং গানের ছলে ধর্মের জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তাঁদের ওপর হামলা মানে আসলে বাংলাদেশের উদার সংস্কৃতির ওপর আঘাত।

বাংলার সুফি ঐতিহ্য, পালাগান, বাউল সঙ্গীত—এসব বাদ দিয়ে এই দেশের অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। মানবতার বার্তা, আধ্যাত্মিকতার দীক্ষা, সামাজিক শিক্ষার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাধ্যম ছিল তাঁদের গান।

কিন্তু আজ তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা না বোঝে, কিংবা স্যাটায়ারকে ভুল ব্যাখ্যা করে আগ্রাসী গোষ্ঠী মব–হামলা চালাচ্ছে। এতে মানবতা পরাজিত হচ্ছে, বিবেকের বিকাশ রুদ্ধ হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এলাকায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে, যা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ৬১ ব্যাচের (M-61) দুই শিক্ষার্থী মুয়াজ ও হামিদুর রহমান—এর মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উভয়েই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলেও ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষ ঘটে।

একপর্যায়ে হামলায় স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, এতে আহত শিক্ষার্থীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

Ridoy Hasan
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

মাদারগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

হৃদয় হাসান
মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বর্ণিল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। দিনব্যাপী নানা আয়োজনে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণের উৎসবে পরিণত হয় পহেলা বৈশাখ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মাদারগঞ্জ পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে সমাপ্ত হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও ঐতিহ্যবাহী মুখোশে সজ্জিত এ শোভাযাত্রা বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।

শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক পান্তাভাতসহ বিভিন্ন বাঙালি খাবারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি দিনব্যাপী বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে স্থানীয় হস্তশিল্প, নকশিকাঁথা, মাটির তৈরি সামগ্রী ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বিভিন্ন স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, যেমন—লাঠি খেলা, হাড়ি ভাঙা ও সাপ খেলা। এছাড়াও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও, মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়াসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে, মাদারগঞ্জ উদয়ন সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা এবং মাদারগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের যৌথ আয়োজনে বালিজুড়ী বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে আরেকটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উদয়ন কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন মাদারগঞ্জ উদয়ন সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম লিটন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মোখলেস, সংস্থার সদস্য কামরুল হাসান সুজন, মোকসেদুর রহমান বেলাল, রকিব হাসনাত, পৌর বিএনপির সহসভাপতি মাজেদ মোল্লা, জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান টুটুল, যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান খান সৌরভসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

সর্বমোট, উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে মাদারগঞ্জে বাংলা নববর্ষ উদযাপন বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

Fahim Islam
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

জুলুম-নির্যাতনের ১৭ বছর পেরিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে জাহিদুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ফাহিম ইসলাম

দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তিনি একাধিকবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন। তবুও দলীয় আদর্শে অটল থেকে এলাকায় সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে জলমা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সুশাসিত ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষার কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। জাহিদুল ইসলামের সমর্থকরা আশাবাদী, জনগণের ভোটে তিনি বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত সূচনা করবেন।

ব্রেকিং নিউজ